নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হোম স্টের টপফ্লোর। মাটি থেকে যার উচ্চতা ২০ ফুট। রাতভর হইহুল্লোড়ের পর সোমবার ভোররাতে সেখান থেকেই পড়ে মারা যান হাওড়ার বাগনানের সপ্তনীল চট্টোপাধ্যায় (২৩)। বুধবার ডাওহিলের ওই হোম স্টে পরিদর্শন করে এমন তথ্য পেয়েছে ফরেন্সিক টিম। তবে ঘটনার তিনদিন পরও ওই ছাত্রের খুনের রহস্যভেদ হয়নি। মৃতের পাঁচ বন্ধু-বান্ধবী সহ হোম স্টের কর্মচারী ও স্থানীয়দের জেরা করবে পুলিস। তারা এজন্য কয়েকজনের কাছে নোটিস পাঠাবে বলে খবর। আজ, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকরা। যাঁরা ওই ছাত্রের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের সঙ্গে জড়িত।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওই ছাত্রকে খুনের অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ফরেন্সিক টিম। দার্জিলিং জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রের মৃত্যুর পরই তদন্তের জন্য জলপাইগুড়ির ফরেন্সিক বিভাগের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেখান থেকে চার সদস্যের দল ডাওহিলের হোম স্টে পরিদর্শন করে। হোম স্টের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে তিনতলা পর্যন্ত প্রতিটি ঘর, ব্যালকনিতে যায় টিমটি। তিনতলার যে রুমে মৃত ছাত্র ও তাঁর বন্ধু-বান্ধবীরা ছিলেন, সেই ঘর বেশ কিছুক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ করেন টিমের সদস্যরা। তাঁরা ফিতে দিয়ে ঘরের ব্যালকনির উচ্চতা মাপজোখ করেন। মাটি থেকে যার উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। একইসঙ্গে টিমের সদস্যরা বিভিন্ন কোন থেকে ওই ঘর এবং হোম স্টের ছবি ক্যামেরা বন্দি করেন।
অতিরিক্ত পুলিস সুপার (কার্শিয়াং) অভিষেক রায় বলেন, ওই ছাত্র খুনের অভিযোগ নিয়ে ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটির সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ফরেন্সিক টিমের রিপোর্টও জমা পড়েনি।
প্রসঙ্গত, পাঁচ বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে কার্শিয়াংয়ের ডাওহিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওই ছাত্র। সোমবার ভোরে হোমস্টের সামনে থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বুধবার ভোরে বাগনানের সামতার বাড়িতে পৌঁছয় সপ্তনীলের দেহ। ভোর থেকেই প্রতিবেশীরা রাস্তায় জড়ো হয়েছিলেন পাড়ার ভালো ছেলেকে একবার দেখার জন্য। পরে শিবপুর শ্মশানে দেহ সৎকার করা হয়।