নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মুকুটে যুক্ত হল নতুন পালক। কার্যত ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেলও। এই প্রথমবার রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে হৃদযন্ত্র নিয়ে যাওয়া হল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চাপিয়ে। শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে মুম্বই সেন্ট্রাল - গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। সেই ট্রেনে চাপিয়ে সুরাত থেকে আমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হৃদযন্ত্র। তারপর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আমেদাবাদের ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে। তা সফলভাবে প্রতিস্থাপিতও হয়েছে বলে খবর।
সাধারণত গ্রিন করিডরের মাধ্যমে অঙ্গ ট্রান্সপোর্ট করাই সুপরিচিত। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি এবং সময়ানুবর্তিতার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত হয় যে, সড়কপথে নয়। বরং রেলপথে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। সেইমতোই কাজ হয়। যেহেতু এসংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই গোড়া থেকেই এব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে বলা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক আধিকারিককে। সেইমতো দফায় দফায় নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে রেল কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), গুজরাত পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল টিম। তৈরি হয় নিখুঁত পরিকল্পনা। জানা যায়, আমেদাবাদ স্টেশনে পৌঁছনোর পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছতে যাতে কোনোরকম বাধার সম্মুখীন হতে না হয়, সেই কারণে বিশেষ পদক্ষেপ করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা স্থির করেন যে, আমেদাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্ম থেকে চিকিৎসা কেন্দ্র পর্যন্ত তৈরি হবে গ্রিন করিডর। সেইমতোই কাজ হয়। গ্রিন করিডর দিয়ে নিমেষে বিনা বাধায় হাসপাতালে পৌঁছয় ওই হৃদযন্ত্র। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা হয় লাইভ ডোনার হার্ট। এব্যাপারে আমেদাবাদের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বেদপ্রকাশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভারতীয় রেলের ইতিহাসেও এটি অত্যন্ত গৌরবের দিন।