Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬

৫৪ কোটি টাকার গরমিল! নিট আন্দোলনের মধ্যেই বিতর্কে টেস্টিং এজেন্সি

উচ্চশিক্ষার পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদই মূল আয়। আর ব্যয়ও তার থেকেই। সেই আয়-ব্যয়ের হিসাবেই গরমিল!

৫৪ কোটি টাকার গরমিল! নিট আন্দোলনের মধ্যেই বিতর্কে টেস্টিং এজেন্সি
  • ৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: উচ্চশিক্ষার পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদই মূল আয়। আর ব্যয়ও তার থেকেই। সেই আয়-ব্যয়ের হিসাবেই গরমিল! অঙ্কটা গত পাঁচ বছরে ৫৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকারও কিছু বেশি। বছর বছর আয়-ব্যয়ের যে তথ্য সামনে এসেছে, তার হিসাব দু’জায়গায় দু’রকম। অন্য কোথাও নয়। খোদ সংসদেই পেশ হয়েছে এই তথ্য। তাই কোনটি ঠিক? কেন এই বিভ্রান্তমূলক উত্তর? সওয়াল খাড়া করে জমা পড়েছে ‘স্বাধিকার ভঙ্গে’র নোটিস। ইস্যু: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। নোটিস পেয়ে মাথায় হাত শিক্ষামন্ত্রকের। মন্ত্রকের আধিকারিকরা হিসাব মেলাতে হিমশিম। মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য জানতে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেল পি সি মোদি। কারণ, সংসদে তিনিই উচ্চশিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দুই সাংসদকে দু’রকম লিখিত জবাব দিয়েছেন। 

Advertisement

নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশ উত্তাল। ‘ককরোচ’ আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন। সংসদের বাদল অধিবেশন চললেও সেখানে না এসে ছাত্র-যুবর মন জয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় প্রতিদিন রাতেবিরেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো বার্তা দিচ্ছেন। এই আবহে সংসদে পেশ করা সরকারি জবাবে ‘গরমিল’। 
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই কংগ্রেস সাংসদ বিবেক তঙ্কা সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছিলেন, এনটিএর আয়-ব্যয় কত? আবার একই প্রশ্ন ২০২৬ সালের ২২ জুলাই করেছিলেন কেরলের সিপিএম সাংসদ ভি শিবদাসন। কিন্তু একই অর্থবর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব দু’জায়গায় দু’রকম কীভাবে হয়? উঠছে প্রশ্ন। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪, গত পাঁচ অর্থবর্ষে এক সাংসদকে লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, এনটিএ’র আয় ৩ হাজার ৪১১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। ব্যয় ২ হাজার ৯৪৬ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ লাভ ৪৬৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। আবার অন্য সাংসদকে একই পাঁচ অর্থবর্ষের হিসাব দেওয়া হয়েছে—আয় ৩ হাজার ৫৪৫ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। ব্যয় ৩ হাজার ২৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। ফলে লাভ কত? ৫১৯ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। দুই সাংসদকে দেওয়া আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান তো বটেই, লাভের অংশেও ৫৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার গরমিল ছাপার অক্ষরে সামনে এসেছে। তাই চুপ না থেকে গত ২৩ জুলাই রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি দিয়ে বিষয়টিকে স্বাধিকার ভঙ্গ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবি তুলেছেন শিবদাসন। সেই পত্রাঘাতের পরই শিক্ষামন্ত্রকের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি গত ৩১ জুলাই সুকান্ত মজুমদারকেও চিঠি দিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। সংসদের বাইরে তারুণ্যের তাড়া-খাওয়া, অন্দরে প্রশ্নের লিখিত জবাবে বিভ্রান্তির অভিযোগে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস। চাপ কিন্তু বাড়ছে মোদি সরকারের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ