Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার, নিষ্কৃতি মৃত্যুর আর্জি মঞ্জুর শীর্ষ আদালতের

ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথমবার। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা এক যুবক হরিশ রানার (৩২) জন্য ‘প্যাসিভ ইউথানাসিয়া’ বা নিষ্কৃতি মৃত্যুর অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার, নিষ্কৃতি মৃত্যুর আর্জি মঞ্জুর শীর্ষ আদালতের
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩

নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ: ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথমবার। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা এক যুবক হরিশ রানার (৩২) জন্য ‘প্যাসিভ ইউথানাসিয়া’ বা নিষ্কৃতি মৃত্যুর অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সংবেদনশীল কাতর আবেদনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব দিক খতিয়ে দেখে এই অনুমতি দেওয়া হয়। 

Advertisement

সুস্থ সবল হরিশ রানা এক সময় পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ের একটি হস্টেলে থাকতেন তিনি। কিন্তু হঠাত্ তার জীবন থমকে যায় ১৩ বছর আগের এক ঘটনায়। ২০১৩ সালের ২০ অগস্ট, হস্টেলের চারতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে আহত হন হরিশ। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে তাঁর। সারাজীবনের জন্য হারান কথা বলা, চলা ফেরার শক্তি। কোমায় চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন হরিশ। নিজের শরীর নড়াচড়া করার ক্ষমতাও নেই। কৃত্রিম ব্যবস্থার সাহায্যে চলছে  শ্বাসপ্রশ্বাস। নাকে নল দিয়ে তরল খাবার খেয়েই চলছে জীবনের লড়াই। বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সে। ছেলের এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারেননা বৃদ্ধ মা-বাবা। বুকে পাথর রেখে তাঁরা ছেলের নিষ্কৃতি মৃত্যুর আর্জি নিয়ে দারস্থ হন শীর্ষ আদালতে। চিকিৎসকদের রিপোর্টেও জানানো হয়, তাঁর অবস্থার কোনও উন্নতির সম্ভাবনা নেই। সেই কারণেই তাঁকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি পরিবারের। 

ভারতে প্রথমবার নিষ্কৃতি মৃত্যুর সিদ্ধান্ত আসে ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায়। সেই সময় যদিও ভারতে আবৈধ ছিল ‘প্যাসিভ ইউথানাসিয়া’। পরে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে আইনি স্বীকৃতি দেন। এবং বেশ কিছু নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। সেই নির্দেশিকা মেনেই হরিশের মামলার বিচার করে আদালত। 

বুধবার এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিচারপতিরা। উঠে আসে আমেরিকার ধর্মযাজক হেনরি ওয়ার্ডের কথা ' ঈশ্বর মানুষকে জীবন দেওয়ার সময় জিজ্ঞেস করেন না সে তা গ্রহণ করবে কি না'। একই সঙ্গে উঠে আসে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’এর বিখ্যাত লাইন “টু বি অর নট টু বি” র কথাও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, হরিশ রানাকে দিল্লির এইমস হাসপাতালে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে। সেখানেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ