Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুখদানপুরে এই প্রথম এক ছাত্রী মাধ্যমিকে বসল, উচ্ছ্বাস গ্রামে

গ্রামের বয়স ৭০ পেরিয়েছে। গ্রামে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু এই প্রথম ওই গ্রাম থেকে কোনো ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল।

সুখদানপুরে এই প্রথম এক ছাত্রী মাধ্যমিকে বসল, উচ্ছ্বাস গ্রামে
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: গ্রামের বয়স ৭০ পেরিয়েছে। গ্রামে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু এই প্রথম ওই গ্রাম থেকে কোনো ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল। ঘটনাটি ভরতপুর ১ ব্লকের সুখদানপুর গ্রামের। যা ঘিরে শিক্ষক থেকে গ্রামবাসীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

Advertisement

ওই ব্লকের গড্ডা পঞ্চায়েতের কুয়ে নদী সংলগ্ন গ্রামটিতে প্রায় ৯০টি পরিবারের বাস। অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে ছোটখাটো ব্যবসাও করেন। অনেকের পেশা আবার মাছ ধরা। তবে গ্রামের প্রতিটি পরিবারই তফসিলি সম্প্রদায়ের। ১৯৮০ সালে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। তবে পঞ্চম শ্রেণির পরেই পড়ুয়ারা স্কুলছুট হয়ে যেত। যদিও গত কয়েকবছরে স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি শিক্ষকদের ।

ইতিমধ্যে গ্রাম থেকে মাত্র তিনজন মাধ্যমিকের গন্ডি টপকেছে। ২০১৯ সালে মাধ্যমিক দিয়েছিলেন চাঁদ মাঝি ও কাজল মাঝি। ২০২০ সালে মাধ্যমিক দিয়েছিলেন কার্তিক মাঝি। তাঁরা প্রত্যেকেই মাধ্যমিক পাশ করেছেন।

আর এবছর মাধ্যমিকে বসেছে অর্জুন মাঝি ও বিক্রম মাঝি। তবে এই প্রথম গ্রামের কোনো মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তার নাম আশালতা মাঝি। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা স্থানীয় গয়েশাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এবছর তাদের মাধ্যমিকের সিট পড়েছে ভরতপুর আলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। গয়েশাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম বলেন, সুখদানপুর গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের খুব কষ্ট করে স্কুলে আসতে হয়। প্রায় আট কিলোমিটার সাইকেল ঠেলে ওরা স্কুলে আসে। এমন অবস্থায় এই প্রথম ওই গ্রামের কোনো একজন ছাত্রী মাধ্যমিকে বসল। যেটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। একইরকম আনন্দ দেখা গিয়েছে গ্রামের প্রতিটি পরিবারে। সুখদানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসানুর জামান বলেন, গ্রামের বয়স প্রায় ৭০ বছর পেরিয়েছে। এবারই প্রথম কোনো ছাত্রী মাধ্যমিক দিচ্ছে। আমরা ওই ছাত্রীর মঙ্গল কামনা করি।

আশালতার বাবা সুফল মাঝি একজন ভাগচাষি। তিনি বললেন, আমরা অতি দুঃস্থ। তবে একমাত্র মেয়েকে শিক্ষিত করব বলে পণ করেছিলাম। যেভাবে হোক মাধ্যমিক পাশ করাবোই ভেবে রেখেছিলাম। আশাকরি মেয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণ করবে। তবে এটা সম্ভব হয়েছে গ্রামের স্কুলের দুই শিক্ষকের জন্য। স্কুলের শিক্ষকরা বিনা পয়সায় মেয়েকে টিউশন দিয়েছেন, বইপত্রও কিনে দিয়েছেন। যে কারণেই মেয়ে মাধ্যমিক অবধি পৌঁছতে পেরেছে। আশালতার মা কিনু মাঝি বলেন, আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। এমন অবস্থায় মেয়ে মাধ্যমিক দিচ্ছে জেনে গ্রামের সকলেই খুশি। কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, এটা ভালো উদাহরণ। ওই ছাত্রীর সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করি।   আশালতা মাঝি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ