Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ক্রিকেট ও ফুটবলের দুরবস্থার জন্য দায়ী বিজেপির দুই স্নেহধন্য

৩৯ বছর সময়টা মোটেই কম নয়। প্রায় চার দশক। রবিবার রাত থেকে এই সংখ্যাটাই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে কাঁটার মতো বিঁধছে।

ক্রিকেট ও ফুটবলের দুরবস্থার জন্য দায়ী বিজেপির দুই স্নেহধন্য
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

সোমনাথ বসু , কলকাতা: ৩৯ বছর সময়টা মোটেই কম নয়। প্রায় চার দশক। রবিবার রাত থেকে এই সংখ্যাটাই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে কাঁটার মতো বিঁধছে। কারণ, এত বছর পর কোনও একটি দলের কাছে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ টেস্ট ও একদিনের সিরিজ হেরেছে টিম ইন্ডিয়া। কোচের নাম জানেন নিশ্চয়ই, গৌতম গম্ভীর। পদ্ম শিবিরের ঘনিষ্ঠ। শাহ পদবিধারীদের পদলেহনই যাঁর হটসিট টিকিয়ে রেখেছে। না হলে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ভারতীয় ড্রেসিং-রুম থেকে কোচকে তাড়িয়ে দেওয়া হত। টেস্ট ও একদিনের ম্যাচে গম্ভীরের প্রশিক্ষণে যথাক্রমে ১৯ ও ২০টি ম্যাচ খেলেছে টিম ইন্ডিয়া। টেস্টে জয় ৭টিতে, হার ১০টি। ড্রয়ের সংখ্যা ২। ৫০ ওভারের খেলায় জিতেছে ১২টি, বশ মেনেছে ৭বার। টাই হয়েছে একটি ম্যাচ। একদিনের ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, জয়ের সংখ্যা তো পরাজয়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু তাঁদের মনে রাখতে হবে, সৌরভ গাঙ্গুলি-মহেন্দ্র সিং ধোনিরা ভারতীয় ক্রিকেটকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, সেই নিরিখে এই ফল অবশ্যই লজ্জার। কিন্তু তা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন গম্ভীর। কারণ, বিসিসিআই এখন বিজেপি’র কবজায়। বোর্ড প্রেসিডেন্ট মিঠুন মানহাস সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলেন জয় শাহের অঙ্গুলিহেলনে। কারও কিছু বলার নেই। ক্রিকেট এখন গেরুয়া রাজনীতির নাগপাশে বন্দি।

Advertisement

শুধু ক্রিকেট কেন? ভারতীয় ফুটবলেরও তো অন্তর্জলি যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছে এই বিজেপির আমলে। ফেডারেশন সভাপতি হিসাবে চরম ব্যর্থ কল্যাণ চৌবে তো এই দলের হয়ে ভোটে লড়েছেন। হেরেওছেন। কিন্তু তাঁর উপর আশীর্বাদ রয়েছে শীর্ষ নেতাদের। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কল্যাণ এআইএফএফের সভাপতি হন। সে বছর ভারতের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১০২-১০৪’এর মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। আর এখন? সুনীল ছেত্রী-গুরপ্রীত সিং সান্ধুরা পিছতে পিছতে ১৪২’এ এসে দাঁড়িয়েছেন। শেষ ১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে মাত্র একটিতে। কিন্তু কল্যাণ হেলদোলহীন। কারণ তিনি জানেন, ‘দড়ি ধরে মারো টান/রাজা হবে খানখান’ বলার মতো লোক এদেশে নেই। বিজেপি কলকাঠি নাড়ায় ফেডারেশনের নির্বাচনে তিনি বাইচুং ভুটিয়াকে হারান। কিন্তু লাভ কী হল ভারতীয় ফুটবলের? অত্যন্ত সাদামাটা তাঁর ফুটবল কেরিয়ার। কর্পোরেট সেক্টর থেকে অর্থ আনার দমও কল্যাণের নেই। ফি বছর বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রোজেক্ট হচ্ছে। কিন্তু তা শিশুর হাতে নাড়ু তুলে দেওয়ার মতোই। বিশ্বকাপ নয়, ভারতের প্রাথমিক টার্গেট হওয়া উচিত এশিয়ান গেমস। মহাদেশীয় স্তরে ধারাবাহিক সাফল্য পেলে আরও বড় মঞ্চের দিকে চোখ তুলে তাকনো যেতে পারে। এফএসডিএল সরে যাওয়ার পর দেশের সর্বোচ্চ লিগ সংগঠনে নাকানিচোবানি খাচ্ছে কল্যাণের ফেডারেশন। শোনা যাচ্ছে, আগামী ২০ বছরের লিগের নকশা ক্লাবগুলির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুঝুন অবস্থা! নুন আনতে পান্তা ফুরানোর জোগাড়, সে আবার না কি মাটন বিরিয়ানির স্বপ্ন দেখছে।

আসলে ক্ষমতালোভী বিজেপির বিন্দুমাত্র ক্রীড়াপ্রেম নেই। ক্রীড়া বোধও। পেটোয়া লোকেদের পদে বসিয়েই গেরুয়া শিবিরের আনন্দ। দেশের ক্রিকেট ও ফুটবল রসাতলে গেলেও তাঁদের হুঁশ ফিরবে না। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ক্রীড়াসংস্থাগুলির এবার এই নিয়ে ভাবা উচিত। প্রতিবাদ ও বিপ্লবের মাধ্যমে তারাই পারেন এই দুই খেলার গৌরব ফেরাতে। 

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ