নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশজুড়ে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে কোণঠাসা বিজেপি। তার পালটা হিসাবে রাজ্যে রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচি নিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই সূত্রেই সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে কলকাতার রাস্তায় জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতা দখলের পর জাতীয় ইস্যুতে প্রতীকী প্রতিবাদে রাজপথে নামলেও, জাতীয় সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী ও বঙ্গ ইউনিটের প্রধান। কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল শুরু হয়ে ধর্মতলায় শেষ হয়। তারপর কয়েক হাজার জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে কার্যত তুলোধোনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর কথায়, ওঁরা পুরো দেশে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে আঘাত করার চেষ্টা করছেন। জনতা ওদের (কংগ্রেসকে) প্রত্যাখ্যান করেছে। জনতার বিষয় নিয়ে লড়লে, প্রত্যাখ্যাত হত না। জনতা প্রত্যাখ্যান করত না। গত পঞ্চাশ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের জনতা ওঁদের নাম নিচ্ছে না। এই অবস্থা চললে, গোটা দেশেও ওদের একই হাল হবে।
বিরোধী দলনেতার উদ্দেশ্যে বিজেপি সভাপতির উপদেশ, নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে বিদেশি শক্তির ‘টুলকিট’ হয়ে রাহুল গাঁধী কাজ করছেন। টুলকিটের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি বলেন, আমি যখন এ কথা বলি, তখন এই কারণে বলি যে, যারা বাংলাদেশকে অস্থির করেছিল, যারা নেপালকে অস্থির করেছিল, এঁদের সহানুভূতি তাদের প্রতি। এই রকম সব শক্তি, যারা অসামাজিক তত্ত্বকে উৎসাহ দেয়, যারা পুরোপুরি নেতিবাচক কাজে এগয়, তাদের প্রতি রাহুল গাঁধী আর কংগ্রেসের সহানুভূতি থাকে। বিরোধীদের প্রতি তাঁর হুশিয়ারি, আপনারা যদি ভাবেন, ভারতকে অস্থির করবেন, যদি ভাবেন ইউরোপকে যারা অস্থির করছে, বাংলাদেশকে বা নেপালকে যারা অস্থির করছে, তাদের টুলকিট হয়ে আপনারা কাজ করবেন, তা হলে জেনে নিন, ভারতের গণতন্ত্র অনেক শক্তিশালী। একে ধাক্কা দেওয়ার শক্তি আপনাদের নেই। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে নবীন বলেন, আমি স্পষ্ট বলছি, আপনাদের পূর্বপুরুষেরা যত বার সে চেষ্টা করেছেন, তত বার দেশের জনতা আপনাদের শিক্ষা দিয়েছে। রাহুল গাঁধী, আপনার না দূরদৃষ্টি রয়েছে, না উন্নয়নের ভাবনা রয়েছে। রাজনীতিতে যে বিবেক, যে শুচিতা থাকা জরুরি, আপনার কথায় তা-ও দেখা যায় না। এদিন নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পরে বিহার থেকে আগের কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ঢোকেন নীতিন নবীন। যদিও দুপুর থেকেই বিজেপি কর্মীদের ভিড় থিকথিক করছিল মধ্য কলকাতায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভায় উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আরশোলা-ছাড়পোকা-দিমাগি নকশাল দেখলেই ঝাঁটা পেটা করুন।



