অলোক মুখার্জি: হার দিয়েই আইএসএলের মরশুম শেষ করল ইস্ট বেঙ্গল। শনিবার নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে চার গোলে পরাজয় সত্যিই লজ্জার। একজন প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে একথা বলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে যে, এই দলের একাধিক খেলোয়াড়ের লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপানোর যোগ্যতা নেই। নিশু কুমারের মতো ফুটবলারদের এখনই বাড়ি ফেরার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া উচিত। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের কথা মাথায় রেখে প্রথম একাদশের নিয়মিত ফুটবলারদের বিশ্রাম দিয়েছিল লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট। এমনকী, কোচ অস্কার ব্রুজোঁ পর্যন্ত দলের সঙ্গে শিলং যাননি। তিনি কি ভুলে গেলেন, দলটার নাম ইস্ট বেঙ্গল! এই ক্লাবের সঙ্গে হাজার হাজার সমর্থকের আবেগ জড়িয়ে। হতে পারে নিছক নিয়মরক্ষার ম্যাচ। তাই বলে চার গোলে হার! এটা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না।
টানা ছ’টি ম্যাচ হেরে লিগ অভিযান শুরু হয় ইস্ট বেঙ্গলের। তারপরে অবশ্য ব্রুজোঁর হাত ধরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দল। মেসি বৌলির মতো বিদেশি আগে আসলে লাভ হতো। এটাও ঠিক যে, এবার চোট-আঘাত ও খারাপ রেফারিংয়ের জন্য ভুগতে হয়েছে ইস্ট বেঙ্গলকে। তা সত্ত্বেও দল একটা সময় সুপার সিক্সের দৌড়ে ছিল। গত চারবারের তুলনায় এবার বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা (২৮)। তবে মনে রাখা দরকার, ইস্ট বেঙ্গল কিন্তু মাঠে নামে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। সেখানে পাঁচ বছরে আইএসএলের লিগ পর্বের গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ তারা। বরং অনেক কম বাজেটে ভালো দল গড়েছে নর্থইস্ট ও জামশেদপুর। এই জায়গাতেই চূড়ান্ত ব্যর্থ লাল-হলুদ টিম ম্যানেজমেন্ট। অতীতে চিমা, ডগলাস, ওকোরো, জুনিয়রের মতো বিদেশিরা লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়েছে। তখন তো ফুটবলার সই করানোর জন্য বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন পড়ত না। আমি মনে করি, স্বাধীনভাবে সুযোগ পেলে ভালো দল গড়বেন ক্লাব কর্তারা। তাই কাল বিলম্ব না করে এখনই দলের খোলনলচে বদলানো উচিত। তার জন্য ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক ইনভেস্টরের প্রতিনিধি। ভালো মানের বিদেশি ফুটবলারের পাশাপাশি ভারতীয় ব্রিগেডও শক্তিশালী করতে হবে। তবেই স্বমহিমায় ফিরবে ইস্ট বেঙ্গল।