নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: একজন বিশ্ব কাঁপানো ফুটবল খেলোয়াড়। অন্যজন অরণ্যভূমির অখ্যাত শ্লেট পাথরের শিল্পী। প্রথমজন ব্রাজিলের জাতীয় দলের প্রাক্তন রাইট ব্যাক ও ক্যাপ্টেন কাফু, আর অন্যজন ঝাড়গ্রামের সুবীর বিশ্বাস। প্রথমজন কুর্নিশ জানিয়েছেন দ্বিতীয়জনকে।
ব্যাপারটা খোলসা করা যাক। ঝাড়গ্রামের শিল্পী সুবীর বিশ্বাস শ্লেট পাথরে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফুর একটি প্রতিকৃতি বানিয়েছেন। সোমবার কলকাতায় এসেছিলেন কাফু। তখনই রাজ্য সরকারের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সুবীরের তৈরি প্রতিকৃতিটি তুলে দেওয়া হয়। দেখে উচ্ছ্বসিত কাফু। বিস্মিত কাফু জঙ্গলমহলের শিল্পীর প্রাণখোলা প্রশংসা করেন। কিছুদিন বাদেই যুবভারতী স্টেডিয়ামে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে ভারত ও ব্রাজিল। সেই ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। সেই উপলক্ষ্যেই সোমবার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজ়িলের অধিনায়ক কাফু কলকাতায় এসেছিলেন। পাথরের মধ্যে খোদাই করা নিজের প্রতিমূর্তি দেখে কাফু অভিভূত হয়ে যান। ছবি খুঁটিয়ে দেখে বিস্ময়ও প্রকাশ করেন। বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু কিছুদিন আগেই সুবীরবাবুকে শ্লেট পাথরে কাফুর প্রতিমূর্তি তৈরির অনুরোধ করেন। অল্প সময়ের মধ্যে খোদাই কাজটি শেষ করেন সুবীর। শ্লেট পাথরে ফুটবলারের ছন্দ ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। ঝাড়গ্রাম জেলায় দীর্ঘদিন ধরে শ্লেট পাথরের শিল্প তৈরির কাজ করে চলেছেন। ভিন্নধর্মী এই শিল্পকর্মের প্রচার সেভাবে হয়নি। সেখানে কিংবদন্তি এক ফুটবলারের প্রশংসা পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি। জেলার শিল্প ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের মানুষরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অরণ্যভূমির মানুষ বহু যুগ ধরে পাথর শিল্পে দক্ষ। বেলপাহাড়ী এলাকার মানুষ পাথর কেটে নানা শিল্পদ্রব্য তৈরি করেন। প্রাচীনকাল থেকেই এই শিল্পচর্চা জেলায় চলে আসছে। সুবীরবাবু অরণ্যভূমির মানুষের জীবন যাপন, সুখ দুঃখের কথা শ্লেট পাথরের মাধ্যমেই তুলে ধরছেন। বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, ঝাড়গ্রামে জেলার প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে আমরা কাফুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সুবীরবাবুর তাঁর শিল্পের মাধ্যমে ঝাড়গ্রামকে তুলে ধরছেন। বিশ্ব বরেণ্য ফুটবলার কাফু শ্লেট পাথরের মধ্যে নিজের প্রতিমূর্তি দেখে অভিভূত হন। শিল্পীর কাজকে কুর্নিশ জানান। সেই মুহূর্তটি আমাদের সকলের কাছে গর্বের ছিল। বিনপুরের শোলা শিল্পী সুব্রত দে বলেন, আমাদের পাথর, শোলা, কাঠশিল্প সেভাবে শিল্প জগতে গুরুত্ব পায় না। জেলার এক শিল্পীর কাজ ফুটবল জগতের বিখ্যাত মানুষের কাছে যেভাবে প্রশংসিত হল, নিঃসন্দেহে তা গর্বের। শহরে নিজের স্টুডিওতে বসে সুবীরবাবু বলেন, খবরটা পাওয়ার পর খুবই বিস্মিত হয়েছিলাম। ব্রাজিলের কিংবদন্তি সব খেলোয়াড়রা ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে তুলে নিয়ে গিয়েছেন। শ্লেট পাথরে কাফুর ফুটবল ছন্দকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। এক শিল্পী আর এক শিল্পীর কাজকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। এটাই বড় পাওয়া।