সংবাদদাতা, বনগাঁ: রেস্তরাঁর ফ্রিজে লাট মারা বাসি মাংস। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজে থেকে ইটের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছে। রান্না করা খাবার জমে শক্ত কাঠ। রয়েছে একাধিক মেয়াদ উত্তীর্ণ সসের বোতল। রান্না ঘরও অপরিষ্কার। বুধবার বনগাঁর বিভিন্ন রেস্তরাঁয় আচমকা হানা দিয়ে খাদ্যদপ্তরের অফিসাররা এমন একাধিক বেনিয়ম দেখতে পান।
এদিন বনগাঁর একাধিক রেস্তরাঁয় যৌথভাবে হানা দেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের ফুড সেফটি ব্রাঞ্চ ও বনগাঁ পুরসভার অফিসাররা। পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এদিন তাঁরা ছ’টি রেস্তরাঁয় হানা দেন। খাবারের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি রেস্তরাঁর অনুমতিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়। এদিনের অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা শাখার একজন জেলা অফিসার, বনগাঁ পুর ও ব্লক এলাকার দু’জন অফিসার সহ দপ্তরের কর্মীরা ছিলেন।
এদিন দুপুরে বনগাঁ ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় জনপ্রিয় একটি রেস্তরাঁয় যান অফিসাররা। কিন্তু সেখানে ফ্রিজ খুলতেই অফিসারদের চক্ষু চড়কগাছ। ফ্রিজে ঠাসা মাংস, প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজে রাখার ফলে মাংসের রং বদলে গিয়েছে। শক্ত কাঠ হয়ে গিয়েছে মাংস। নোংরা ফ্রিজে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগে মোড়া দীর্ঘদিনের সবজি। আলগা করে রাখা বিভিন্ন খাবার। রেস্তরাঁটির রান্না ঘরে গিয়েও অপরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করেন অফিসাররা। সেখানে রয়েছে একাধিক মেয়াদ উত্তীর্ণ সস ও রং। শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক একাধিক রং ওই রেস্তরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বেশ কিছু রান্না করা বাসি, পচা খাবারও এদিন নষ্ট করে দেন তাঁরা। সন্দেহ হওয়ায় একাধিক খাবারের ও মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। পাশাপশি এদিন বনগাঁ স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে বেশ কয়েকটি রেস্তরাঁয় হানা দিয়ে কিছু বেনিয়ম লক্ষ করেন খাদ্য সুরক্ষা শাখার অফিসাররা। তাঁরা জানিয়েছেন, মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। বেশ কিছু খাবারের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র