নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: হোটেল, রেস্তরাঁ, কারখানা, দোকানে খাবারের গুণমান খতিয়ে দেখতে টানা অভিযান চলছে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বহু দোকানের বিরুদ্ধে। এবার নিষিদ্ধ রং ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগে এক সস কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করা হল। বুধবার বনগাঁ থানার কলমবাগান এলাকায় ওই সস কারখানায় যৌথভাবে হানা দেয় ডিইবি, দুর্নীতি দমন শাখা ও খাদ্য সুরক্ষা শাখার আধিকারিকরা। ছিল বনগাঁ থানার পুলিশ। কারখানায় একাধিক বেনিয়ম মেলায় মালিক হরেকৃষ্ণ পালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কেজি সস, কাসুন্দি, গোলাপ জল।
বৃহস্পতিবার পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে অশোকনগরের গোলবাজার সংলগ্ন একটি দুধ ও মিষ্টি বিক্রির দোকানে অভিযান চালায় জেলার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স ও মিষ্টিতে রাসায়নিক রং মেশানোর অভিযোগে দোকান সিল করে দিয়েছেন আধিকারিকরা।
চুঁচুড়া, মগরা, উত্তরপাড়া সহ হুগলি জুড়ে চলল অভিযান। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্কমৌলি কর, ডেপুটি সিএমওএইচ দেবযানী বসু মল্লিক ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। চুঁচুড়ায় গঙ্গার পাড়ে একটি রেস্তরাঁয় অভিযানে দেখা যায়, মেয়াদ উত্তীর্ণ মাছ, মাংস, কাঁকড়া জমা রয়েছে ফ্রিজে। মগরায় একটি বেকারিতে ২৪০ বস্তা চিনি, ১৭৬ বস্তা ময়দা, ৬০টিন তেল মজুত রয়েছে, যার বৈধ কাগজ নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। নোটিস দিয়ে তিনদিনের মধ্যে তার জবাব দিতে বলা হয়েছে। উত্তরপাড়ায় একটি মিষ্টির দোকানেও চলে অভিযান। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিয়ম না মেনে চলছিল মিষ্টি তৈরির কাজ। টিটাগড়ের বিভিন্ন রেস্তরাঁ এবং খাবারের দোকানে হানা দিয়েছে যৌথ টিম। বারাকপুরের মহকুমা শাসক যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল বিভিন্ন রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন ফুড সেফটি অফিসাররা।
এদিন, সোনারপুর এলাকার একটি মিষ্টির দোকান সিল করা হল ও রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের অফিসাররা। জানা গিয়েছে, ওই রেস্তরাঁয় এঁটো খাবার দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এছাড়াও পচা মাছ ও অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কেজি কাঁচা মাছ মাংস ফেলে দেওয়া হয়েছে। মিষ্টির দোকান রমরমিয়ে লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এদিন তা হাতেনাতে ধরেছেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। মিষ্টির দোকানের প্রায় ৫০ কেজি মাখা সন্দেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তবুও তারা সেটা ফেলে দেননি। পরে অফিসাররা তা বাতিল করে। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি তেলের মিলে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা। এখান থেকেও তেলের নমুনা নেওয়া হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য। অন্যদিকে, ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার অধীনে কাকদ্বীপ, ডায়মন্ডহারবার, নামখানাতেও বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। একাধিক দোকানে নোটিস ধরিয়েছেন আধিকারিকরা। মেয়াদ উত্তীর্ণ বহু খাবার ফেলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাবারের মান যাচাই করতে বকখালির বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানে যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন। অভিযানে সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া-সহ বিভিন্ন খাবারের গুণগত মান, রান্নার মশলা, সংরক্ষিত কাঁচা মাছ-মাংস ও শাকসবজির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।