Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাদ্যে বিষক্রিয়া, মৃত্যু ক্লাস সিক্সের ছাত্রীর, আশঙ্কাজনক আরও দুই, গঙ্গানগরে শোকের ছায়া

গঙ্গানগরে খাবারে বিষক্রিয়ায় ১২ বছরের নন্দিনী দাসের মৃত্যু। মা ও দিদি গুরুতর অসুস্থ। কী ঘটেছিল? বিস্তারিত জানুন।

খাদ্যে বিষক্রিয়া, মৃত্যু ক্লাস সিক্সের ছাত্রীর, আশঙ্কাজনক আরও দুই, গঙ্গানগরে শোকের ছায়া
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বাড়িতেই রান্না করা রাতের খাবার খেয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত কিশোরীর নাম নন্দিনী দাস (১২)। একই খাবার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ তার মা ও আরও এক দিদি। ঘটনাটি গত শনিবার হলেও অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সোমবার রাতে মেয়েটির মৃত্যু হয়। 

Advertisement

মৃতার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গানগরে কলাকুমারী দাস তিন মেয়ে অঞ্জলি, রাধিকা ও নন্দিনীকে নিয়ে থাকেন। তাঁর স্বামী শ্যাম দাস কর্মসূত্রে দিল্লি থাকেন। শনিবার রাতে কলাকুমারী রাতের খাবারে রুটি ও আলু ভাজা তৈরি করেছিলেন। রাধিকার শরীর খারাপ থাকায় সে বাদে বাকিরা সকলে রুটি ও আলুভাজা খেয়ে শুয়ে পড়ে। রবিবার সকাল থেকেই কলাকুমারী, অঞ্জলি ও নন্দিনী অসুস্থ বোধ করতে থাকে। একযোগে বমি, মাথাব্যথা, পেট খারাপ হয় তিনজনের। প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় মেডিসিনের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে এসে তিনজনকে খাইয়ে দেন। তাতে কিছুটা সুস্থ বোধ করেন সকলে। ওই দিনটা কোনোভাবে কাটলেও সোমবার সকালে থেকে নন্দিনীর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হতে শুরু করে। ওর পেট খারাপ, বমির মাত্রা বেড়ে যায়। 
এরপরেই তাকে খালপাড়ার একটি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। রাতে নার্সিংহোম থেকে নন্দিনীকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। মেডিকেলে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় কিশোরীর। অন্যদিকে, মা কলাকুমারী ও দিদি অঞ্জলির শারীরিক অবস্থা বিগড়ে যায়। তাদেরও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করেন প্রতিবেশীরা। মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মা-মেয়ের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট সঙ্কটজনক। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান খাবারে বিষজাতীয় কিছু পড়ে যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। 
মঙ্গলবার ঘটনার কথা জানতেই মেডিকেলে পৌঁছন স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলার অনিতা মাহাত। তাঁর উদ্যোগে কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খালপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ। কাউন্সিলার বলেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা দেখতে পুলিশকে বলেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কলাকুমারীর একটি মেয়ে বাড়িতেই আছে। 
অন্যদিকে, বাড়িতে থাকা রাধিকা দাস বলেন, আমার পেটে ব্যথা থাকায় ওই রাতে খাবার খাইনি। মা ও বোনেরা খেয়েছিল। পরে ওদের শারীরিক সমস্যা শুরু হয়ে যায়। ছোটো বোনের মৃত্যু হয়েছে। বাবাকে ঘটনার কথা ফোনে জানিয়েছি। • এলাকায় শোকের ছায়া। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ