নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বোরো মরশুমে ৮৩ হাজার মেট্রিক টন ধান কিনবে খাদ্যদপ্তর। মে মাসের গোড়া থকেই জেলার ‘সিপিসি’ বা কেন্দ্রীয় ধানক্রয় কেন্দ্রগুলি থেকে ধান কেনা হবে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার কিছু জায়গায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সব জায়গায় পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে। ধান বিক্রি করতে যাতে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে না হয় তারজন্য তারজন্য সিপিসিগুলি চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবছর প্রায় আট লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, বোরো মরশুমে উৎপাদিত ধান চাষিরা বেশির ভাগটাই বাড়িতে রাখেন। চাষের খরচ তুলতে কিছুটা ধান তাঁরা বিক্রি করেন। চাষিরা বলেন, এবার অনেক বেশি ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা ছিল। কিন্তু শেষ মহূর্তে বৃষ্টি আর শোষক পোকার আক্রমণে ধানের ফলন ধাক্কা খেয়েছে। ভাতার এবং মেমারি-২ ব্লকের বহু জমির ধান জমিতে লুটিয়ে পড়েছে। এক আধিকারিক বলেন, চলতি মরশুমে ছ’ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি ধান কেনা হয়েছে। মাঝে সিপিসিগুলিতে চাষিরা আসছিলেন না। বোরো ধান উঠতে শুরু করলে আবার চাষিরা ধান বিক্রি করবেন। তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, ফড়েরা যাতে সুবিধা না পায় তারজন্য এবারও নথি দেখেই চাষিদের থেকে ধান কেনা হচ্ছে। চাষিদের থেকে আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। ফড়েদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এর আগে আধিকারিকরা জেলার ক্যাম্পগুলিতে যান। কয়েকটি ক্যাম্পের কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধযক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, এবছর ধান চাষে জলের অভাব হয়নি। সব জমিতে পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। তাই ফলন ভালো হবে বলেই আশা করা যায়। তবে শেষ মূহূর্তের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার চাষিরা ধান বিক্রি করতে যাতে সমস্যায় না পড়েন তার ব্যবস্থা খাদ্যদপ্তর করছে। সব ব্লকেই সিপিসিগুলি সক্রিয় করা হবে। কোথাও ধান বিক্রি করতে সমস্যা হলে চাষিরা সরাসরি খাদ্যদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রতীকী চিত্র



