বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে মহালয়ায় হল মা দুর্গার চক্ষুদান ও কালীপুজো
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: মা দুর্গার চক্ষুদানের মধ্যদিয়ে শনিবার থেকে পুজো শুরু হয়ে গেল জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে। ৫১৭ বছরের পুরনো এই পুজোয় প্রথা মেনে মহালয়ার দিন প্রথমে সোনার দুর্গার চক্ষুদান ও পরে মৃন্ময়ী প্রতিমার চক্ষুদান করা হয়। কালীকা পুরান মতে দুর্গাপুজো হয় তাই মহালয়ার সন্ধ্যারাতে কালীপুজো করা হয় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে। 

Advertisement

রাজ পরিবারের দুর্গাপুজোর নিয়ম অনুযায়ী জন্মাষ্টমীর পরের দিন কাঠামোপুজা, নান্দোৎসব এবং কাদা খেলার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতি বছর নিরঞ্জনের পর প্রতিমার মূল কাঠামো জল থেকে তুলে রাজবাড়ির মণ্ডপে রেখে দেওয়া হয়। সেই কাঠামোকেই পুজো করা হয়। বৈকুণ্ঠপুর রাজ পরিবারের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে নরবলির কথা শোনা যায়। বর্তমানে চালের মণ্ডকে মানুষের প্রতিকৃতি বানিয়ে প্রতীকী নরবলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে। নবমীর দিন রাজবাড়িতে সিঁদুর খেলায় মাতেন গোটা শহরের মহিলারা। দশমীর দিন রাজবাড়ির প্রাচীন রীতি মেনে  দেবীর দশমী পুজো হয়।  এরপর দেবীকে  সিঁদুর ছোঁয়াতে ধীরে ধীরে মহিলাদের ভিড় বাড়তে থাকে রাজবাড়ি চত্বরে।
সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। এদিন বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুঁড়ে রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব শুরু করেন রাজ পরিবারের সদস্য সৌম্য বসু। রাজবাড়ির নাট মন্দির সংলগ্ন পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।
রাজ পরিবারের অন্যতম সদস্যা লিন্ডা বসু বলেন, আমাদের পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী আমরা সমস্ত রীতি মেনে এবারও মায়ের পুজো করছি। কুল পুরোহিতের হাতেই আমাদের এই পুজো সম্পন্ন হয়ে থাকে। এবারেও এই রীতির অন্যথা হবে না। রাজ পরিবারের পুরোহিত শিবু ঘোষাল বলেন, প্রতিবারের মতো এবারেও মহালয়ার দিন আমরা সন্ধ্যায় কালীপুজো করব। • নিজস্ব চিত্র।