সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুরে প্রধান শিক্ষক শ্যুটআউট কাণ্ডে দু’বছর আগে তৃণমূল নেতা বাপি রায় খুনের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। কারণ, শিক্ষক নজরুল ইসলামকে যে স্থানে দুষ্কৃতীরা গুলি করেছে তার ১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত একটি লাইন হোটেলে দু’বছর আগের বাপি রায়কে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা এলোপাথারি গুলি চালিয়ে খুন করেছিল। কার্যত অপরাধ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ওই এলাকাই বেছে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।
জেলার পুলিশ সুপার রাকেশ সিং বলেন, ওই খুনের ঘটনার সঙ্গে এদিনের ঘটনার কোনো যোগ নেই। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিহার লাগোয়া ইসলামপুরের ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রামগঞ্জ থেকে শ্রীকৃষ্ণপুরের মাঝামাঝি মাদারিপুর ও শিবনগর এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ বর বলেন, এই এলাকায় ট্রাক দাঁড় করালে চালকদের মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনতাই হয়ে যায়। দুষ্কৃতীরা এই এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালায়। এলাকা কার্যত দুষ্কৃতীদের আখরায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির প্রয়েজান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি তৎকালিন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূলের লিপি রায়ের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা বাপি রায় লাইন হোটেলে খাবার খাচ্ছিলেন। সেই সময় বাইকে চেপে দুষ্কৃতীরা আসে। তাঁকে এলোপাথারি গুলি চালিয়ে খুন করে তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছিল।
এবার ঠিক ওই এলাকাতেই শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটলো। এই ঘটনাটিও ঘটেছে ওই লাইন হোটেল সংলগ্ন এলাকাতেই। ঘটনাস্থল থেকে পশ্চিম দিকে কিছু দূর পালাতে পারলেই বিহার রাজ্য। গা ঢাকা দেওয়া সহজ বলেই দুষ্কৃতীরা এই এলাকাকেই বারবার বেছে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বাসিন্দাদের একাংশ।
বাসিন্দারা বলছেন, ইসলামপুর পুলিশ জেলায় জাতীয় সড়কে শ্যুট আউটের ঘটনা এর আগেও হয়েছে। ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর ভরদুপুরে পাঞ্জিপাড়ায় জাতীয় সড়কে দুষ্কৃতীরা গুলি করে খুন করে তৎকালিন পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূলের মহম্মদ রাহিকে (৫২)। দু’টি বাইকে চারজন দুষ্কৃতী গুলি করে বিহারে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে পুলিশ খুনের কিনারা করতে সমর্থ হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জিপাড়ায় প্রিজনভ্যানে থাকা এক বিচারাধীন বন্দি পুলিশকে গুলি করে চম্পট দিয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশ এই ঘটনার কিনারা করে।