


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাফাইকর্মী সেজে মিউজিয়াম থেকে চুরি। তারপর ঝড়ের গতিতে স্কেটিং করে একের পর এক গাড়ি বাইককে টেক্কা দিচ্ছেন কালো জ্যাকেট পরা হিরো। দামি স্পোর্টস বাইকেও তাঁর নাগাল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না পুলিশের। ঋত্বিক রোশনের হিট হিন্দি সিনেমা ‘ধুম-টু’-এর এই দৃশ্য সবারই প্রায় চেনা। সিনেমার চিত্রনাট্যে সেই দৃশ্য দর্শকদের কাছে চূড়ান্ত রোমহর্ষক। কিন্তু, শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে ততটাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে গোটা ব্যাপারটা সেরেছিলেন হিরো ঋত্বিক। কিন্তু, বাস্তবে টিনসেল টাউনের হিরোকে নকল করতে শহরের ফ্লাইওভারকে বেছে নিয়েছেন এক যুবক। তাঁর টার্গেট কলকাতার ফ্লাইওভার। তাঁর কাছে ফ্লাইওভার যেন স্কেটিং ট্র্যাক!
হাওড়া ব্রিজ, দ্বিতীয় হুগলি সেতু কিংবা এজেসি বোস-মা ফ্লাইওভার দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন! তাহলে এঁনার দেখা হয়তো পেয়েছেন। স্কেটিং শ্যু পরে ফ্লাইওভারের উপর হেলায় গাড়ি বাইক কাটিয়ে হু-হু করে ছুটে চলেছেন এক যুবক। সঙ্গে তাঁর পাশ দিয়ে বাইক ছোটাচ্ছেন আরও এক যুবক। তাঁর পিছনের আসনে উল্টোভাবে বসে আরেকজন। তাঁর হাত মোবাইল। চলছে ‘স্কেটার’ বন্ধুর স্টান্ট মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করার বিপজ্জনক কাজ। তবে এটা কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য নয়। বাস্তবের শহর কলকাতা। যানবাহন ভরা রাস্তা। শুধু তাই নয়, সবকটি ফ্লাইওভারেই যানবাহনের গড় গতি প্রায় ৫০-এর কাছাকাছি। নিঃসন্দেহে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিচ বাড়ানোর উদ্দেশে নিত্যদিন বিপদ তৈরি করছেন ওই যুবক।
শুধু স্কেটিং নয়। তাঁর সহযোগীদের ভিডিও শ্যুটের জেরে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন ফ্লাইওভারের নিত্যযাত্রীরা। তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। সহ নাগরিকদের পাশাপাশি সরাসরি কলকাতা পুলিশকেও যেন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ‘স্কেটার’-এর কার্যকলাপ। সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। হাওড়া ব্রিজের নিরাপত্তার জন্য দিনের বেশিরভাগ সময় মোতায়েন থাকে কলকাতা পুলিশের একটি পিসিআর ভ্যান। সেই ভ্যানের গা ঘেঁষে ভিডিও করতে করতে ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে এই অজ্ঞাতপরিচয়ের স্কেটারকে। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই হাওড়া ব্রিজের মতো ব্যস্ত রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা। মূলত বাইকচালকদের অভিযোগ, ফ্লাইওভারের উপরে চলন্ত বাইকের সঙ্গে গতিতে পাল্লা দেওয়াই এই যুবকের টার্গেট। তাতেই নাকি আসে সোশ্যাল মিডিয়ার রিচ। বাড়ে ফলোয়ার। সেটাই অর্থ রোজগারের উৎস। কিন্তু, যুবকের ফলোয়ার বাড়ানোর নেশা, ফ্লাইওভারে উপর পথদুর্ঘটনার বিপদ ঘনাচ্ছে না তো?
শুধু হাওড়া ব্রিজ নয়, মা ফ্লাইওভারেও নিত্যদিন দেখা মেলে এই যুবকের। সন্ধ্যার অফিস টাইম শুরুর আগেই ফ্লাইওভারে রিলের নেশায় মেতে ওঠেন তিনি। স্কেটিং করতে করতে ক্যামেরার দিকে ইশারা করতেও ভুল হয় না তাঁর। প্রশ্ন উঠেছে, যে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে, তা কেন পুলিশের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে?