


বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: প্রায় দু’মাস হতে চলল সম্প্রীতি উড়ালপুলে গাড়ি চলাচল বন্ধ। জিনজিরা বাজার থেকে বাটা মোড় পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালপুলে সংস্কারের কাজ চলছে। ফলে সেতুর গাড়ি নেমে এসেছে বজবজ ট্রাঙ্ক রোডে। স্বভাবতই এই ব্যস্ত রাস্তায় যানজট অনিবার্য হয়ে পড়েছে। গাড়ির জট কাটিয়ে এগিয়ে চলাই এখন দায়।কতদিন ধরে চলবে সেতু সংস্কারের কাজ? প্রশ্ন তুলছেন মহেশতলা, বজবজ এবং পুজালির বাসিন্দারা। কারণ সম্প্রীতি ফ্লাইওভার বন্ধ থাকায় সব থেকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। মার্চ মাসে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কেএমডিএ’র তরফে জানানো হয়েছে, যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে সমগ্র সেতু সংস্কার করতে এপ্রিল মাস গড়িয়ে যাবে। তিন জনপদের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কবে কাজ শেষ হবে, কেউ জানে না। এখন এপ্রিল বলছে, কিন্তু যে ঢিমেতালে কাজ চলছে, তাতে তিন-চার মাসও লাগতে পারে। গোটা সেতু থেকে পিচের আস্তরণ তুলে ফেলা হয়েছে। সেসব আবর্জনা স্তূপ করে যত্রতত্র রাখা হয়েছে সেতুর উপরেই। সেগুলি সরানোর নামগন্ধ নেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা রাখা হয়েছে স্টোনচিপস, বালি, বাঁশ, পিচের ড্রাম ইত্যাদি। কোথাও কোথাও নতুন করে পিচের প্রলেপ পড়লেও তা অসম্পূর্ণ রয়েছে। ধীরলয়ে কাজ চলায় যারপরনাই বিরক্ত এলাকার মানুষ।
কেএমডিএ জানিয়েছে, সেতুর উপর পিচের আস্তরণ কেটে তুলে নিয়ে নতুনভাবে রাস্তা তৈরি করতে হচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করা যায় না। প্রশাসনের কর্তারা ইতিমধ্যেই কাজ শেষ করার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার যুব কংগ্রেস নেতা গোপাল মণ্ডল বলেন, এর অর্থ হল, টানা চার মাস উড়ালপুলে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। তাহলে আগে তিন মাস বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল কেন? উড়ালপুল বন্ধ থাকার কারণে যাবতীয় গাড়ির চাপ বজবজ ট্রাঙ্ক রোডে এসে পড়েছে। ফলে যানজট আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ডায়মন্ডহারবার হারবার পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, সেতু সংস্কারের কাজ চলায় আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ করা এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আপাতত সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার চাকার ছোট গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে যে খুব একটা লাভ হয়েছে, তা নয়। নিজস্ব চিত্র