Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

উড়ুক্কু কাঠবেড়ালি!

পক্ষীরাজ ঘোড়াদের গল্প শুনেছ? রূপকথার গল্পে রাজকুমারদের নিয়ে দূরদূরান্তে পাড়ি দিত এই ঘোড়া। তবে, দৌড়ে নয়। ডানা মেলে পেরিয়ে যেত সাত সমুদ্র তেরো নদী।

উড়ুক্কু কাঠবেড়ালি!
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষীরাজ ঘোড়াদের গল্প শুনেছ? রূপকথার গল্পে রাজকুমারদের নিয়ে দূরদূরান্তে পাড়ি দিত এই ঘোড়া। তবে, দৌড়ে নয়। ডানা মেলে পেরিয়ে যেত সাত সমুদ্র তেরো নদী। আচ্ছা, এমন ডানা যদি কাঠবেড়ালিদের থাকত, তাহলে কেমন হত? রূপকথার গল্প নয়, বাস্তবে এক বিশেষ প্রজাতির কাঠবেড়ালি উড়তে পারে। নাম ফ্লাইং স্কুইরেল বা উড়ন্ত কাঠবেড়ালি।

Advertisement

এরা স্তন্যপায়ী, নিশাচর। চোখ বড় বড়, উজ্জ্বল। এরা রাতের অন্ধকারেও ভালো দেখতে পায়। নরম লোমে ঢাকা থাকে গোটা দেহ। আর লেজ লম্বা, ঝুঁটির মতো। দেহের সামনের পা থেকে পিছনের পা পর্যন্ত একটি পাতলা চামড়ার পর্দা থাকে, একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘প্যাটাজিয়াম’। এই পর্দার সাহায্যে এক গাছ থেকে অন্য গাছে অনায়াসে উড়ে যেতে পারে এই প্রাণীরা। অনেক সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। অবশ্য পাখিরা যেমন উড়তে পারে, তেমনভাবে ওড়ার ক্ষমতা এদের নেই। পাখিদের মতো ডানাও নেই।

তাহলে কীভাবে ওড়ে?

প্রথমে গাছ বা উঁচু জায়গা থেকে ঝাঁপ দেয়। প্যাটাজিয়াম তাদের সাহায্য করে বাতাসে ভাসিয়ে রাখতে। এভাবে প্যারাশ্যুটের মতো ভাসতে ভাসতে এগিয়ে চলে তারা। এছাড়া এদের সামনের পায়ে থাকে ‘কার্টিলেজ স্পার’। এর সাহায্যে আঙুলগুলিকে প্রসারিত করতে পারে। ফলে প্যাটাজিয়াম স্তর অনেকটা ছড়িয়ে যায়। আর দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকে বায়ুতে।

এদের প্রধান বাসস্থান ঘন বনাঞ্চল। এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অরণ্যে দেখা যায় উড়ুক্কু কাঠবেড়ালিদের। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হিমালয়ের পাদদেশ ও দক্ষিণ ভারতের কিছু বনাঞ্চলেও এরা বাস করে। রাতের বেলা খাবারের সন্ধানে বেরয়। আর দিনের বেলায় গাছের কোটর বা ডালে বাসায় লুকিয়ে থাকে। উড়ন্ত কাঠবেড়ালিরা মূলত তৃণভোজী। ফল, বাদাম, বীজ, ফুল ও কচি পাতা খায়। কখনও পোকামাকড় ও ছোট কীটও থাকে এদের খাদ্যতালিকায়। খাদ্য সংগ্রহের সময় ভেসে থাকার ক্ষমতা ব্যবহার করে সহজেই এক গাছ থেকে আরেক গাছে পৌঁছে যায়। ফলে দৌড়নো, লম্ফজম্ফের ফলে যে শক্তিক্ষয় হয়, তা সাশ্রয় হয়। শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এদের হাতে ও পায়ের তলায় থাকে নরম মাংসল অংশ। এর মাধ্যমে হাঁটাচলা করলেও বাকিরা খুব একটা টের পায় না। চুপচাপ অন্যত্র চলে যেতে পারে উড়ুক্কু কাঠবেড়ালিরা। আবার বাতাসে ভেসে থাকতে থাকতে ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে এরা। ফলে এদের ধরতে গেলে বেগ পেতে হয় চিল, ঈগলের মতো শিকারি পাখিদের।

পরিবেশ দূষণ, জঙ্গল কেটে বসতি তৈরি, নগর সভ্যতার বিকাশের জেরে উড়ুক্কু কাঠবেড়ালিদের অস্তিত্ব বিপন্ন। এদের অনেক প্রজাতিই এখন বিলুপ্তপ্রায়। এশিয়ায় মূলত ৪৩ রকম প্রজাতি দেখা যেত। তার মধ্যে ৪০টিই বিলুপ্তির পথে। বাকিরাও হাতেগোনা। গত বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে যথাক্রমে মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখণ্ডে দেখা মিলেছিল ইন্ডিয়ান জায়ান্ট ফ্লাইং স্কুইরেলের। তোমরাও যদি কখনও তাদের দেখা পাও, জিজ্ঞাসা করো— ‘কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ