সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : নিম্নচাপের প্রভাবে কখনও ভারী কখনও মাঝারি বৃষ্টি। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অমাবস্যার কোটাল। এই জোড়া ফলায় নষ্ট হতে বসেছে ফুল এবং ফুলগাছ। এই ক্ষতির ফলে পুজো মরসুমের ঠিক আগে মাথায় হাত বাগনানের ফুলচাষিদের।
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : নিম্নচাপের প্রভাবে কখনও ভারী কখনও মাঝারি বৃষ্টি। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অমাবস্যার কোটাল। এই জোড়া ফলায় নষ্ট হতে বসেছে ফুল এবং ফুলগাছ। এই ক্ষতির ফলে পুজো মরসুমের ঠিক আগে মাথায় হাত বাগনানের ফুলচাষিদের।
সামনে গণেশ পুজো, তারপর বিশ্বকর্মা পুজো। এরপরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসছে। আর লাগাতার বৃষ্টির ফলে কয়েক হাজার ফুলচাষি সমস্যায় পড়েছেন। হাওড়া জেলার যেখানে ফুলের চাষ হয় তার মধ্যে বাগনান অন্যতম। বাগনান এক নম্বর ব্লকের কল্যাণপুর, বিরামপুর, দীপামালিতা, বাগনান দু’নম্বর ব্লকের বাকুড়দহ, ওড়ফুলি, বৈদ্যনাথপুর, নাচোক, ভুলগেড়িয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েকশো একর জমিতে সারাবছরই একাধিক ফুলের চাষ হয়। সেখানকার চাষিরা পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের ফুলবাজার এবং কলকাতার মল্লিকঘাট বাজারে ফুল বিক্রি করেন।
গত কয়েকবছর ধরেই আবহাওয়ার কারণে এবং ছত্রাকের আক্রমণে ফুল চাষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত কয়েকমাস একটানা বৃষ্টির কারণে ফুল ও গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম। পুলক ধারা নামে বাকুড়দহের এক চাষি জানান, গত কয়েক মাসের বৃষ্টিতে গাঁদা, দোপাটি, রজনীগন্ধা, অপরাজিতা, বেল, জুঁই সহ অন্যান্য ফুল নষ্ট হচ্ছে। গাছের গোড়ায় জল জমার কারণে গাছ ও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামনে পুজোর মরসুম। সব চাষি এই সময় ভালো ব্যবসার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু আবহাওয়া তাঁদের আশায় জল ঢেলে দিচ্ছে। এর ফলে পুজোর সময় ফুলের দাম আকাশ ছোঁবে। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন দুর্গাপুজোর মাত্র এক মাস বাকি। টানা দেড় মাস বৃষ্টি চলায় বাগানের মাটি ভিজে ও স্যাঁতসেতে হয়ে অর্ধেক গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাপড়িযুক্ত ফুলের ভিতর বৃষ্টির জল ঢুকে পাপড়ি পচে গিয়েছে। ফুলের গুণমান নষ্ট হচ্ছে। আসন্ন পুজো মরশুমে ফুলের সঙ্কট অনিবার্য।