শ্রীনগর: দু’দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি। জলের তলায় জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ, রাজৌরি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বর্ষণজনিত বিপর্যয়ে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ বহু। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে কাশ্মীর ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, দুর্গতদের সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার। এদিকে, প্রতিকূল জেরে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে অমরনাথ-বৈষ্ণোদেবী যাত্রা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টি ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পুঞ্চ জেলার সুরানকোটের লোয়ার মুররাহ এলাকা। বন্যার পাশাপাশি নেমেছে ধস। ভেঙে গিয়েছে একাধিক বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার ভোর থেকে রাজৌরির পরিস্থিতিও শোচনীয়। বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন। একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে একের পর এক গাড়ি। দুই জেলাতেই সেনাবাহিনী, পুলিশ, এসডিআরএফ, স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে তা বারবার ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। এরইমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আবহাওয়া দপ্তরেরর পূর্বাভাস। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজ দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, অমরনাথ যাত্রা স্থগিত প্রসঙ্গে কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ জানান, আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তার ভিত্তিতে অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। বালতাল এবং নুনওয়ান-চন্দনওয়ারি বেস ক্যাম্প থেকে কোনো তীর্থযাত্রীকে আর এগতে দেওয়া হচ্ছে না। আবহাওয়ার উন্নতি, যাত্রাপথের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে অমরনাথ যাত্রা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। একই কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বৈষ্ণোদেবী যাত্রাও।