Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সপ্তম দিনেও ত্রাণ শিবিরে বন্যা দুর্গতরা, ফের নিম্নচাপে আতঙ্ক

এক সপ্তাহ ধরে জলবন্দি পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। জমা জল বের করতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের। জেসিবি নিয়ে খাল, ক্যানেল সাফাই করা চলছে।

সপ্তম দিনেও ত্রাণ শিবিরে বন্যা দুর্গতরা, ফের নিম্নচাপে আতঙ্ক
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এক সপ্তাহ ধরে জলবন্দি পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। জমা জল বের করতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের। জেসিবি নিয়ে খাল, ক্যানেল সাফাই করা চলছে। শনিবার জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই জেলায় ২৭৭টি ত্রাণ শিবির খোলা ছিল। তাতে পাঁচ হাজার দুর্গত মানুষ ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় অনেকে বাড়ি ফিরে গেলেও ভগবানপুর-১ সহ বিভিন্ন জায়গায় এখনো বহু দুর্গত মানুষজন শিবিরে রয়েছেন। এরমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাবে রবিবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় বেশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে দুর্গতদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে। জল কমার মুহূর্তে ফের নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় তাঁদের চোখে মুখে আতঙ্ক। সেইসঙ্গে ফসলের আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। 

Advertisement

রবিবার জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থা অফিসার বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে আমাদের জেলায় প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় ২৫ হাজার ১১৭ জন দুর্গতকে বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে সরাতে হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই বাড়ি ফিরেছেন। শনিবার জেলায় ২৭৭টি ত্রাণ শিবির খোলা ছিল। সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার দুর্গত ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় অনেকে বাড়ি ফিরেছেন।পটাশপুর, ভগবানপুর ও চণ্ডীপুর ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় জলবন্দি রাস্তাঘাট, স্কুল বিল্ডিং, হাটবাজার। ভগবানপুর-১ ব্লকের চড়াবাড় গার্লস হাইস্কুলে ২৫ জনের মতো দুর্গত এখনো আছেন। স্কুলে যাওয়ার রাস্তা জলমগ্ন। স্কুল ভবনের নীচের অংশও জলে ডুবে রয়েছে। চড়াবাড় গ্রামের বাসিন্দা প্রণব দাস বলেন, চণ্ডীপুর ব্লকে বিভিন্ন খালপাড় জবরদখল মুক্ত করা হচ্ছে। খাল থেকে পলি কেটে জল নামানোর যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ড চলছে। অথচ, আমাদের ভগবানপুরে এরকম উদ্যোগ নেই। কলাবেড়িয়া খাল দখল করে অনেক ঘর ও দোকান নির্মাণ হয়েছে। অথচ, সেচদপ্তর ও প্রশাসন এই খাল থেকে জল নিকাশির কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। 
ভগবানপুর-১ ব্লকের কোটবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কলাবেড়িয়া প্রসন্নকুমার হাইস্কুলে রবিবারও ৬০ জন মতো দুর্গত রয়েছেন। স্কুল ভবনের নীচে গবাদি পশু রাখা হয়েছে। উপরে মানুষজন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে খোকন কর, তীর্থঙ্কর কর, শেখ রবি, শেখ কালু বলেন, জমা জল নামছে না। নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের ঘর থেকে জল নামছে না। রাস্তাঘাট এখনো জলের তলায়। যে কারণে বাড়ি ফিরে যেতে পারছি না। তারমধ্যে আবার নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানতে পারছি। শেষমেশ কী হবে জানা নেই।
কংসাবতী জলাধার থেকে জল ছাড়ার কারণে এদিন পাঁশকুড়ায় কংসাবতী নদীর জলস্তর বেড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পুরসভার ৮ ও ৯ নম্বর এলাকা এখনো জলমগ্ন। 
 রবিবার চণ্ডীপুরে দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী বিলি করছে স্থানীয় থানার পুলিশ।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ