বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: গত কয়েকদিন ধরেই বন্যা বিধ্বস্ত অসম-অরুণাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে খবর। এরইমধ্যে সোমবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একথা জানিয়ে হিমন্ত লিখেছেন, ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নিয়েছেন শাহ। কেন্দ্রের তরফে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহে ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অরুণাচলের লোয়ার সুভানসিরি ও কেয়ি প্যানিওর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এরপর লাগাতার বৃষ্টির জেরে রাজ্যের অন্যান্য কিছু অঞ্চলেও বন্যা দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা অসমেও। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধস নেমেছে একাধিক এলাকায়। অসমের ধেমাজি জেলায় ১৯৬৫ সালে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ে। এজন্য ওই লাইনে রেল পরিষেবাও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধেমাজি, নলবাড়ি, ডিব্রুগড়, চিরাং, লখিমপুর ও কোকরাঝাড়—এই ছ’টি জেলায় বন্যার কবলে পড়েছে ২২ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা। জলমগ্ন ৯৬টি গ্রাম। প্রায় ১,৬৯০ হেক্টর জমি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪৮,১৯৯টি গবাদি পশুও বিপন্ন। এরইমধ্যে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির জলস্তরও দ্রুত বাড়ছে।
অরুণাচলেও আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পূর্বাভাসে উদ্বেগ বেড়েছে। ইতিমধ্যে অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার দিবাং ভ্যালি জেলায় উদ্ধারকাজে নেমেছে বায়ুসেনা। ডামবুক এলাকার সিসিরি নদীর একটি দ্বীপে আটকে পড়া চারজনকে সোমবার হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, টানা বৃষ্টি ও হড়পা বন্যার জেরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরকদমে চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে সিয়াং জেলার সিজি এলাকায় রবিবার ধসের ফলে বিপদে পড়েন এক বাইক আরোহী। কোনোক্রমে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।