সংবাদদাতা, বনগাঁ: টানা বৃষ্টি। এর মধ্যেই এগিয়ে আসছে দুর্গাপুজো। হাতে গোনা কয়েকটি দিন মাত্র বাকি। তবে সময় এগিয়ে এলেও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে সেভাবে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না। কারণ তাঁদের ভাবাচ্ছে, বন্যা পরিস্থিতি। ২০০০ সালের স্মৃতি মনে আসছে বনগাঁর অনেক উদ্যোক্তার। ফলে তারা ধীর গতিতে কাজ করছেন। এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আতঙ্কে পটুয়াপাড়ার শিল্পীরাও। কয়েক মাস ধরে তাঁরা প্রতিমা গড়েছেন। ভালো বায়না পাবার আশা করছিলেন। কিন্তু বন্যার কারণে পুজোয় জৌলুস কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিমার দাম কমবে বলে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা।
এখনও ২০০০ সালের বন্যার স্মৃতি টাটকা বনগাঁর বাসিন্দাদের মনে। সেবছর মহালয়ার দিন বাঁধের জল ছাড়া হয়েছিল। ইছামতী উপচে পড়েছিল। জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। রাস্তায় নৌকা নামাতে হয়েছিল। পুজো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এবছর এখনও পর্যন্ত সে পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। তাই সতর্ক হয়ে চলছেন উদ্যোক্তারা। প্রশাসন লাল সতর্কতা জারি করেছে। এখন অতি বৃষ্টিতে ফুঁসছে জলাধারগুলি। আরও বৃষ্টি হলে জলাধারগুলি থেকে নতুন করে জল ছাড়া শুরু হতে পারে। তা হলে ভাসবে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই আশঙ্কায় ভুগছেন সবাই। বনগাঁ শহরে বড় বাজেটের প্রায় ৭০ টিরও বেশি দুর্গাপুজো হয়। এ বছর এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ পুজো ঢিমেতালে প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছে। বনগাঁ তিন নম্বর টালিখোলা এগিয়ে চলো সঙ্ঘের সদস্য বিশ্বজিৎ দাস ( বিশু) বলেন, ‘প্যান্ডেলের কাজ এগিয়েছে। তবে ইছামতী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় একটু আতঙ্কের মধ্যে আছি। ২০০০ সালের স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে।’ প্রতিমাশিল্পী লক্ষ্মণ পাল বলেন, ‘এবছর ৪০টি প্রতিমা বানিয়েছি। সবকটি’রই বায়না হয়েছে। আকাশের যা অবস্থা জানি না কি হবে। এলাকা জলমগ্ন হলেই ভয় লাগে। পুজোয় কাটছাঁট হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অনেক ঋণ রয়েছে।’ এর পাশাপাশি চিন্তায় রয়েছেন পোশাক ব্যবসায়ীরাও। তাঁরাও পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায়। - নিজস্ব চিত্র