আমেদাবাদ: সন্ধ্যা নামছে। সূর্যাস্তের আগে মোতেরার আকাশ জুড়ে কমলা আভা। মেঘের চাদর ফুঁড়ে হঠাৎই বেরিয়ে এল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। গেরুয়া, সাদা, সবুজ রং ছড়িয়ে ডানা মেলল দিগন্তে। স্টেডিয়ামের লাউড স্পিকারে গমগমিয়ে বাজছে— মা তুঝে সালাম...। শঙ্কর মহাদেবন অ্যান্ড ট্রুপের অনুষ্ঠান পুরোটাই দেশপ্রেমের পরতে মাখা। আইপিএল ফাইনালের মেগা মঞ্চে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সম্মান জানাল বিসিসিআই। গ্ল্যামার, প্যাশন, বৈভবে চোখ ধাঁধাঁনোর জোগাড়। আইপিএলের উদ্বোধনে ইডেন মাতিয়েছিলেন বরুণ ধাওয়ান, দিশা পাটানিরা। কিন্তু অতিরিক্ত সাহসী পোশাকে তাঁদের চটকদারি পারফরম্যান্স নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে হয়তো সচেতনভাবেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চাইলেন আয়োজকরা। আসলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুরে মোক্ষম জবাব দিয়েছে ভারত। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কয়েকদিন বন্ধ থাকে আইপিএল। গ্ল্যামার লিগের বিদায়ী অনুষ্ঠানের পরতে পরতে দেশপ্রেম আর মুঠো মুঠো আবেগের ফল্গুধারা।
গত কয়েকদিন ধরেই আইপিএল ফাইনাল ঘিরে তীব্র বিতর্ক ডালপালা মেলেছিল। আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে ইডেন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় প্লে-অফ ও মেগা ফাইনাল। তবে বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি আমেদাবাদেরও। তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। মঙ্গলবারও ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে আকাশ পরিষ্কার হতেই দলে দলে সমর্থক পা বাড়ালেন স্টেডিয়ামে। খেলা শুরুর আগেই হাউস ফুল নরেন্দ্র মোদির নামাঙ্কিত স্টেডিয়াম। আইসিসি’র চেয়ারম্যান জয় শাহ থেকে বোর্ডের বড়-মেজ কর্তারা সবাই উপস্থিত। এমনকী, চোখে পড়ল সিএবি কর্তাদেরও। আর তা নিয়ে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার অন্দরে জোর চর্চা শুরু। কয়েকদিন আগেই ইডেনের প্রতি বঞ্চনার প্রতিবাদে গোঁসা হয়েছিল তাঁদের। এদিন বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ম্যাচ দেখলেন তাঁরা। মান-অভিমানের পালা শেষ। নাকি প্রচারের বৃত্তে ভেসে থাকার মরিয়া চেষ্টা? প্রোটোকল মেনে বোর্ড আমন্ত্রণ জানাতেই পড়িমরি ছুটলেন বঙ্গ কর্তারা। ঠিক যেন, একবার সাধিলেই যাইব গোছের।
যাই হোক, ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করলেন টিম শঙ্কর মহাদেবন। বাবার পাশেই হাজির দুই ছেলে সিদ্ধার্থ ও শিবম। মাঠের মতো গ্যালারিতেও জাতীয় পতাকার উজ্জ্বল উপস্থিতি। শুরুতে নাচের অনুষ্ঠান। ‘মেরে দেশ কি মিট্টি’ থেকে শুরু করে ‘দেশে মেরে, দেশ মেরে, মেরি জান হ্যায় তু।’ কুশীলবদের সঙ্গেই গলা মেলালেন সমর্থকরা। এরপরেই দুরন্ত চমক। জায়ান্ট স্ক্রিনের ভিডিওতে সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মাননা জ্ঞাপন। দেশরক্ষার নায়কদের কুর্নিশ। এরপর মাঠে নামলেন শঙ্কর মহদেবন। টানটান অনুষ্ঠান একেবারে অন্য তারে বাঁধা। ধুন্ধুমার ক্রিকেট যুদ্ধের আগে আরসিবি ও পাঞ্জাব সমর্থকরাও একই সঙ্গে গলা মেলালেন। ক্রিকেট আর জাতীয়তাবোধ মিলেমিশে একাকার।