নয়াদিল্লি: স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এবার উত্তরপ্রদেশের পিলিভিট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকাতেও ব্যাপক ‘কারচুপি’র অভিযোগ। গত এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর হঠাত্ করেই পিলিভিটের ১০ হাজারের বেশি আসল ভোটারদের নাম বাদ চলে গিয়েছে। কমিশনের সাইটে দেখা যাচ্ছে এর বদলে যোগ হয়ে গিয়েছে অন্য অস্তিত্বহীন নাম। অথচ এপিক নম্বর বদল হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজি ও হিন্দিতে ভোটার ও বাবার নাম বদলে গেলেও উর্দুতে পুরানো নামই রয়ে গিয়েছে। মূলত কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং সফটওয়্যারের ত্রুটিকে কাজে লাগিয়েই এই ‘কারচুপি’ হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কার বিষয়, এই ত্রুটিগুলি শুধু উত্তরপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ফলে দেশজুড়েই এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি অভিযোগ তোলার পর ভোটার তালিকায় ‘অনিয়ম’ যে হয়েছে, তা মেনে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) দপ্তরও। পিলিভিটের দায়িত্বে থাকা দুই ইআরও-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মায়াঙ্ক গোস্বামী ও হেমন্ত চৌধুরী নামে ওই দুই ইআরও’র বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট জমা দিতেও বলা হয়েছে। এফআইআর হয়েছে অনিল কুমার নামে এক কম্পিউটার অপারেটরের নামেও। তবে নির্বাচন কমিশন কড়া ব্যবস্থার কথা বললেও দেখা যাচ্ছে বহু ভুয়ো ভোটারের নাম এখনও তালিকায় জ্বলজ্বল করছে।
কীভাবে আসল ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘দ্য রিপোর্টার্স কালেকটিভ’। তারা জানিয়েছে, নিয়ম মতো ভোটারের নাম বা অন্য কোনো তথ্য সংশোধনের জন্য নথি সহ ‘ফর্ম-৮’ জমা দিতে হয়। অথচ কোনো নথি ছাড়াই কমিশনের সফটওয়্যারে আবেদন যাচাই করা যাচ্ছে। ইআরও-দের হাতে বিপুল ক্ষমতা থাকায় নথি ছাড়াই নাম বদলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, ফর্ম-৮ জমা পড়লে বিএলও’রা বাধ্যতামূলকভাবে ভোটারের বাড়িতে গিয়ে সব কিছু যাচাই (ফিল্ড ভেরিফিকেশন) করবেন। কিন্তু বাস্তবে ইআরও-রা এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ছাড়াই নাম-ঠিকানা সংশোধনের অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন। আর এর জেরেই এপিক নম্বর না বদলালেও ভোটার ও তাঁর পরিবারের তথ্য বদলে গিয়ে নতুন নাম যোগ হয়ে যাচ্ছে। মজার বিষয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বুথে যাওয়ার আগে আসল ভোটার তাঁর নাম বাদের বিষয়টি জানতেই পারছেন না।
পিলিভিটের ৫৫টি বুথে এমন ২,৬৯১টি নাম বদলের দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এঁরা সকলেই মুসলিম ভোটার। এরা কেউই ফর্ম-৮ জমা দেননি। যেমন, ৩৩ বছরের আখলাক। এসআইআরের চার মাস পর তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। আখলাকের এপিক নম্বর তালিকায় থাকলেও দেখা যাচ্ছে নাম বদলে হয়েছে আকিল আহমেদ। বদলেছে বাবার নামও। আখলাখ জানিয়েছেন, আকিল নামে তাঁদের গ্রামেই কেউ থাকেন না। একইভাবে নাদিম আহমেদ হয়ে গিয়েছেন ইসরার। বাবার নামও সুরজ আহমেদ থেকে বদলে হয়েছে ফায়াজ খান। উত্তরপ্রদেশের সিইও দপ্তর জানিয়েছে, ইআরও-র দপ্তরে এসব নাম বদলের জন্য কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটরই ১০ হাজার ৪৭০টি ভুয়ো ‘ফর্ম-৮’ জমা দেন এবং সেগুলি অনুমোদনও পেয়ে যায়। যদিও সফটওয়্যার বা কার্যপদ্ধতির ফাঁকফোকর নিয়ে কমিশনের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।



