নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একদা তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সুরক্ষিত’ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নাকাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার লড়াই কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির ধারাবাহিক ধর্মীয় মেরুকরণের ফলেই এই বদল। এমন পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবির ভরসা রাখছে অভিজ্ঞতার উপর। পাঁচবারের বিধায়ক বর্ষীয়ান কল্লোল খাঁকেই ফের প্রার্থী করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই প্রচারে ঝাঁপান কল্লোলবাবু। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বেথুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় জনসংযোগে বের হন তিনি। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হওয়ায় এলাকাবাসীর কাছে আলাদা করে পরিচয়ের প্রয়োজন পড়েনি। বরং প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে অনেকেই তাঁর শারীরিক সুস্থতার খোঁজখবর নেন, রোদে কম বেরোনোর পরামর্শও দেন। এরপর দুপুরে মুড়াগাছা পার্টি অফিসে কর্মী বৈঠক এবং বিকেলে ব্লক পার্টি অফিসে নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। প্রচারের ফাঁকেই কল্লোল খাঁ বলেন, মানুষের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিজেকে নতুন করে পরিচয় করানোর কিছু নেই। সারা বছরই তো তাঁদের সঙ্গে থাকি। অনেকেই বলছেন, এই রোদে বেরোনোর কী দরকার!
উল্লেখ্য, নদীয়া জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ হিসেবেই পরিচিত কল্লোল খাঁ। ২০০১ সালে তাঁর হাত ধরেই নাকাশিপাড়ায় ২৪ বছরের বাম দুর্গের পতন ঘটে এবং প্রথমবার ঘাসফুল ফোটে। এরপর ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১— টানা চারটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি।
ভোটের অঙ্ক বলছে, ২০১৬ সালে প্রায় ৬ হাজার ভোটে জিতলেও ২০২১-এ তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই মার্জিন কমে প্রায় ৬ হাজারে নেমে আসে। অন্যদিকে বেথুয়াডহরি-১, বেথুয়াডহরি-২, নাকাশিপাড়া, বিল্বগ্রাম সহ একাধিক পঞ্চায়েতে বিজেপি ধীরে ধীরে নিজেদের সংগঠন ও ভোটব্যাঙ্ক শক্ত করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন লড়াইয়ের মুখে অভিজ্ঞ কল্লোল খাঁকে প্রার্থী করা তৃণমূলের ‘মাস্টার স্ট্রোক’। এখন দেখার, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ কতটা কাজে লাগে বদলে যাওয়া নাকাশিপাড়ার নির্বাচনী সমীকরণে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, এবার নাকাশিপাড়া বিধানসভায় বিজেপির জয় নিশ্চিত। মানুষ ওখানে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু সেখানকার উন্নয়ন হয়নি। এবার সেখানকার মানুষ বিজেপিকে জেতানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। • নিজস্ব চিত্র