


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: রাজনীতির আঙিনায় যাঁরা ঘোরাফেরা করেন, ‘ভোট মেশিনারি’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। একসময় বলা হত বামেদের ভোট মেশিনারি অত্যন্ত শক্তপোক্ত। সেসব অতীত। সেই জায়গা এখন নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেলাস্তরে একটি ও ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রে আরও ন’টি ওয়ার রুম থেকে জেলার ১৬ শো’রও বেশি বুথের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিলেন কর্মীরা। শুধু কি জেলা বা ব্লক? তৃণমূল এবার জেলার ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতেও ভোটের জন্য রেখেছিল ওয়ার রুম। এখন প্রযুক্তির যুগ। ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে আসছে খবর। সেই খবরের ভিত্তিতে দলের নিচু থেকে উঁচুতলা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিল নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কোচবিহারের নিউটাউনে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা ওয়ার রুমে ছিল চরম ব্যস্ততা। সেখানে খানিকক্ষণের জন্য ঢুঁ মারেন দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। সেখানে তখন চরম ব্যস্ততা। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা, কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান রজত বর্মা সহ অন্য শাখা সংগঠনের নেতারা সেখানে সারাদিনই বসে থাকেন।
অভিজিৎ বলেন, জেলার প্রধান ওয়ার রুমে ৪৯ জন কাজ করেছেন। প্রত্যেক বিধানসভায় একটি করে ওয়ার রুম করেছি আমরা। সেখানে পাঁচজন করে ছিলেন। এছাড়াও প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে ওয়ার রুম করা হয়েছিল। সেখানে চার জন করে কাজ করেছেন। এছাড়াও অনেকে দায়িত্বে ছিলেন। সব মিলিয়ে ভোটের দিন ওয়ার রুমগুলিতে প্রায় পাঁচশো জন কাজ করলেন।
কোচবিহারের ভোট মানেই রাজবংশী, নস্যশেখ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভোটের চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোন বুথে কত ভোটার, তার মধ্যে কতজন ভোট দিলেন, কতজন ব্লক, কত ফ্লোটিং ভোটার-এসব অঙ্ক রাজনৈতিক নেতাদের আগে থেকেই কষে রাখতে হয়। তার নিরিখে চলে ভোটের হিসাব, প্রচার, জনসভা। এসব পর্ব মিটে এদিন ছিল ভোট। জেলার ২২ লক্ষ ৬৩ হাজারের বেশি ভোটার। তার মধ্যে কত মানুষ ভোট দিতে এল, তার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে, সেসব রাজনৈতিক নেতাদের আগে থেকেই বুঝে নিতে হয়। সেই হিসাবে ঘুঁটি এগতে হয়, পিছতে হয়। আর তারজন্য চাই শক্ত নেটওয়ার্ক। যার পুরোটাই এদিন চলল এসব ওয়ার রুম থেকে।