নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সিপিএমের যুব সংগঠনের সভা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতের অন্ধকারে বালি-বেলুড়ে সিপিএমের পাঁচটি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তপ্ত হল এলাকা। সংগঠিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে সিপিএমের অভিযোগ। ৬০-৭০ জন দুষ্কৃতী ২০টি মোটরবাইকে চেপে এসেছিল। তারা মিনিট ৪৫-এর মধ্যেই পরপর পাঁচটি অফিস ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। বাম দলটির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির। তাদের দাবি, এটা জনরোষের বহিঃপ্রকাশ।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ডিওয়াইএফআই-এর ইনকিলাব সমাবেশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালিখাল সংলগ্ন পঞ্চাননতলায় প্রচার কর্মসূচি হিসাবে প্রকাশ্য সভা করেছিল যুব সংগঠনটি। প্রধান বক্তা ছিলেন দীপ্সিতা ধর। সিপিএমের অভিযোগ, সমাবেশ শেষ হওয়ার পর রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দেওয়ানগাজি, খামারপাড়া, বেলুড় স্টেশন রোড, পাঠকপাড়া এবং পঞ্চাননতলার পাঁচটি পার্টি অফিসে ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর করে তারা। ভাঙা হয় টিভি, চেয়ার, টেবিল সহ বিভিন্ন আসবাব। রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয় দলীয় পতাকা, বইপত্র। অভিযোগ, হামলার শেষে পাঁচটি অফিসেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা। বুধবার সকালে সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্ব তালা ভেঙে কার্যালয়গুলি খোলেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও স্থানীয়দের কেউই মুখ খুলতে চাননি।
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শঙ্কর মৈত্র বলেন, ‘৪৫ মিনিটের মধ্যে পাঁচটি পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। প্রায় কুড়িটি বাইকে করে দুষ্কৃতীরা এসে সংগঠিতভাবে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’ তাঁর দাবি, ২০১১ সালে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল বালি-বেলুড় এলাকায় সিপিএমের ৩৫টি অফিস ভাঙচুর করেছিল। ২০২৬ সালে বিজেপিও একই কায়দা নিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার মিছিল করে বালি থানা ঘেরাও এবং ডেপুটেশন দেয় সিপিএম।
যদিও ভাঙচুরের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির হাওড়া জেলা যুব মোর্চার সভাপতি রাজা গোস্বামী বলেন, ‘আমরা গণেশ পুজো নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এই ঘটনায় আমাদের দলের কোনো লোক ছিল না। এটা জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। সিপিএমের কাছে ভিডিয়ো ফুটেজ থাকলে প্রমাণ করুক।’ বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখবেন। এদিকে, ভাঙচুর নিয়ে দীপ্সিতা ধর বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘এরা বাংলার বুকে বাঙালির ঐতিহ্য শেষ করতে চায়, বালিতে অক্ষয়কুমার দত্তের বাড়ি ভেঙে দিতে চায়, ভণ্ড বাবাদের বাংলায় ঢুকিয়ে বাঙালি বিদ্বেষী মন্তব্য করাতে চায়। বালির মানুষকে এবার বেছে নিতে হবে, তাঁরা আদৌ বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা করতে চান কি না।’