নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়েনি একটিও মনোনয়ন। তাই বাতিল হয়েছে সিএবি’র নির্বাচন। এখন যা পরিস্থিতি তাতে সচিব, এবং যুগ্মসচিবকে ছাড়াই বেশ কিছুদিন চলবে বঙ্গীয় ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। নিয়ম অনুযায়ী, দু’মাসের মধ্যে নির্বাচন করাতে হয়। সেই সময় পেরিয়ে গেলে দেখা দিতে পারে সাংবিধানিক সংকট। তাই বৃহস্পতিবার সিএবি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনটি পদের নির্বাচন নিয়ে চর্চার সম্ভাবনা থাকছে। সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির উপর বিরোধীরা চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে মহারাজ অবশ্য জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন করানোর জন্য আমরা তৈরি। তার আগে আইনি দিক খতিয়ে দেখতে হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর সিএবি’তে সমীকরণ বদলেছে। শক্তিশালী হয়েছে বিরোধী গোষ্ঠী। তাই তিনটি পদের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ছিল চরমে। তা আঁচ করতে পেরে কৌশলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার হয়েছে সরকারি হস্তক্ষেপে। কারণ, আট জেলাশাসকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই জটিলতার সৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই মনোনয়ন দেওয়ার সাহস দেখায়নি। কিন্তু দুই শিবিরই ফুঁসছে। কারণ, বিগত কয়েক বছরে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছে সিএবি। ক্রিকেটারদের বয়স ভাঁড়ানোর ইস্যু নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের সময় মনোনয়ন পত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এবং মামলা গড়িয়েছে থানায়। তাছাড়া ডুপ্লিকেট মনোনয়ন পত্র জারি করা হবে না বলে নির্বাচন অফিসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই ক্ষোভ রয়েছে বহু ক্লাবের। এই সব বিষয়গুলি নিয়েও তোলপাড় হতে পারে বৃহস্পতিবারের সভা।
এদিকে, রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে ময়দানে প্রভাব বিস্তারে মরিয়া পদ্মশিবির। সিএবি’র সভায় বিজেপির পাঁচ প্রতিনিধি থাকবেন। বিধায়ক সজল ঘোষ বরানগর স্পোর্টিং থেকে যাবেন। বেলগাছিয়া ইউনাইটেড থেকে আর এক বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি ও তাঁর স্ত্রী হেমা পাশের ক্লাব উত্তরপল্লি থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন সিএবি’র এজিএমে। পাশাপাশি সৌরভ শিকদার ও অনুপম ভট্টাচার্যর মতো নেতারাও এবার বঙ্গীয় ক্রিকেটের প্রশাসনে পা রাখছেন। যা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ক্রীড়ামহলে। সঙ্গে রয়েছে আশঙ্কাও। সিএবি’র দিয়ে শুরু। ধাপে ধাপে ময়দানের তিন প্রধানের প্রশাসনিক কাজকর্মেও পদ্মশিবিরের নেতাদের প্রাধান্য বিস্তার বাড়বে সময়ের সঙ্গে, মত ওয়াকিবহাল মহলের। তবে সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোনওভাবেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর মতো ভুল করতে চান না। জগমোহন ডালমিয়াকে সরাতে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায়কে সিএবি’র সভাপতি পদে প্রার্থী করেছিলেন বুদ্ধদেব। কিন্তু ডালমিয়া জেতায় মুখ পুড়েছিল তাঁর। তাই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিএবি এবং ময়দানের বিভিন্ন ক্লাবের প্রশানিক কাজকর্মে সরাসরি রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে।