নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে, গ্রামেগঞ্জে জলাশয় ভরাট প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে পদক্ষেপ হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই হয় না। এবার শহর কলকাতায় উল্টো চিত্র। প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে ভরাট হয়ে যাওয়া একটি জলাশয় ফের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। নিউ বালিগঞ্জ রোডে হচ্ছে এই কাজ। সংস্কার শুরুর পর এখানকার বাসিন্দাদের খুশির শেষ নেই। পাঁচ বিঘার পুকুরটিকে বলা হতো এই অঞ্চলের কিডনি এবং ফুসফুস। মানুষ স্নান করতেন। প্রতিমা নিরঞ্জন হতো। নিকাশির কাজেও সাহায্য করত বিশাল আকারের জলাশয়টি। জমি হাঙরদের কবলে পড়ে সেটি ক্রমে যাচ্ছিল ভরাট হয়ে। তবে স্থানীয় মানুষ রুখে দাঁড়ান। প্রতিবাদ করেন। ফলে সম্মিলিত প্রতিবাদের সামনে রক্ষা পেয়ে যায় নিউ রোডের কিডনি-ফুসফুসের মতো পুকুরটি। অভিযোগ, বহু কালের পুরনো জলাশয়টি আবর্জনা এবং মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছিল। কয়েক বছর আগে হাঙরদের হাত থেকে বাঁচিয়ে সেটির আংশিক উদ্ধার সম্ভব হয়। কিন্তু পুরো জলাশয়টিকে পুরনো অবস্থায় ফেরানো যাচ্ছিল না। এবার জেসিবি দিয়ে মাটি কেটে জল সেচ করে পুকুরের চেহারায় ফিরিয়ে আনার কাজ হচ্ছে। পুষ্কর সেনগুপ্ত নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় পুকুরটি অনেক বড় ছিল। স্নান, প্রতিমা নিরঞ্জন হতো। ধীরে পুকুর দখল হতে শুরু করে। তবে প্রতিবাদ হয় বলে বাঁচানো গিয়েছে। সামান্য অংশে শুধু জল ছিল। এখন পুরনো সীমানা ধরে মাটি কাটা শুরু হয়েছে।’ কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজনলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক কষ্টে জলাশয়টিকে বাঁচানো গিয়েছে। এত বড় পুকুর এই অঞ্চলের ফুসফুস। সেটি ভরাট করা যাবে না। জায়গাটি ঘিরে দেওয়া হয়। পুকুরের পুরনো চেহারা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। কাজ শেষে চারদিক শালবল্লা দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে।’ কলকাতা পুরসভার পরিবেশ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে পুকুর কাটার কাজ হচ্ছে। মাটি কেটে জল বের করা হবে। তারপর আশপাশের সৌন্দর্যায়ন হবে যাতে নতুন করে আবর্জনা না ফেলা হয়। - নিজস্ব চিত্র



