স্বপন দাস, কাকদ্বীপ; আর ঠিক দশ দিন পর ইলিশ মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেবে সুন্দরবন অঞ্চলের ট্রলারগুলি। কয়েক হাজার ট্রলার যেতে তৈরি। প্রস্তুতিপর্ব প্রায় শেষ। কিন্তু তার আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ মৎসজীবী ও ট্রলার ব্যবসায়ীরা। কারণ অত্যাধিক হারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় দশ টাকা বেড়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় হাজার টাকা। এই পরিস্থিতিতে এ মরশুমে ট্রলার কীভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মৎস্যজীবীরা।এছাড়াও শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় সব পক্ষ।
প্রায় দু’মাস ধরে নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। এই দু’মাস মাছেদের প্রজননের আদর্শ সময়কাল। তাই কোনো মৎস্যজীবী নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারেন না। ১৪ জুন রাত থেকে আবার সব মৎস্যজীবী ইলিশ ও অন্যান্য মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেবে। ট্রলার মালিক রবীন্দ্র দাস বলেন, ‘গতবছর ব্যবসা খুব মন্দা গিয়েছিল। ইলিশের দেখা সেভাবে মেলেনি। এ বছর আবার তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। তেল ও গ্যাস ছাড়া ট্রলার চালানো সম্ভব নয়। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে একটি ট্রলার প্রায় ১০ দিন পর উপকূলে ফেরে। তাই ডিজেলের পাশাপাশি সমুদ্রে রান্না করার জন্য গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এবছর টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। খুব চিন্তার মধ্যে আছি আমরা। নদী ও সমুদ্রে সেভাবে মাছ পাওয়া না গেলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’ অন্য্যন্য মৎসজাবীরা জানান, ট্রলারে যাওয়ার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রচুর মৎস্যজীবী পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কেরালায় চলে গিয়েছেন। তাঁরা ফিরে না এলে মাছ ধরা নিয়ে খুব সমস্যা হবে। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা উঠলেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় এক হাজার ট্রলার গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেবে। প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। কিন্তু এ বছর তেল ও গ্যাসের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে সরবরাহ নিয়েও সমস্যা চলছে। সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তবে আগামী দিনে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে তা সময়ের উপর নির্ভর করবে।’-নিজস্ব চিত্র