সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: চলছে মাছ ধরার ভরা মরশুম। কিন্তু মাঝেমধ্যেই কোনো না কোনো ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। উথালপাথাল ঢেউয়ের ঝাপটায় উল্টে যাচ্ছে মাছ ধরার জলযান। বিপদের মুখে পড়ছেন মৎস্যজীবীরা। কখনও অবধারিত মৃত্যু, কখনও কোনোক্রমে প্রাণরক্ষা হচ্ছে।
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: চলছে মাছ ধরার ভরা মরশুম। কিন্তু মাঝেমধ্যেই কোনো না কোনো ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। উথালপাথাল ঢেউয়ের ঝাপটায় উল্টে যাচ্ছে মাছ ধরার জলযান। বিপদের মুখে পড়ছেন মৎস্যজীবীরা। কখনও অবধারিত মৃত্যু, কখনও কোনোক্রমে প্রাণরক্ষা হচ্ছে।
কিন্তু কেন এবং সমুদ্রের কোন অংশে বেশি ঘটছে দুর্ঘটনা, সেটাই বড়ো প্রশ্ন। মৎস্যজীবীদের ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। জানা গিয়েছে, কাকদ্বীপ মহকুমার মৎস্যবন্দরগুলি থেকে গভীর সমুদ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় সাতটি চ্যানেল ব্যবহার করা হয়। তার মধ্যে তিনটি চ্যানেল বিপজ্জনক। সাধারণ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় তো বটেই এই পথগুলি বিভিন্ন সময় ট্রলার চলাচলের ক্ষেত্রে আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। কারণ এখানে ঢেউয়ের মাত্রা বেশি। এছাড়াও নীচে গোপন চরা রয়েছে। এগুলির অবস্থান আবার প্রতিবছর পরিবর্তন হয়ে থাকে। কোথাও চরার উচ্চতা বেড়ে যায়। কোথাও কমে যায়। তাই এই চ্যানেল বা রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকতে হয়। কিন্তু দেখা গিয়েছে, যাতায়াত করতে গিয়ে বা দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে তাড়াহুড়ো করে উপকূলে ফেরার সময় কোনোভাবে ভুলবশত সেই বিপজ্জনক চ্যানেলের ভিতরে ঢুকে পড়ছে ট্রলারগুলি।
ফলে অনেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না তাঁদের জলযান। দুর্ঘটনায় পড়ে সেগুলি উল্টে যাচ্ছে।মৎস্যজীবীদের কথায়, রক্তদ্বীপের চরা, হরিপুর ও কালিস্থানের আশপাশে থেকে যে চ্যানেলগুলি বয়ে গিয়েছে, এগুলি থেকে খুবই সাবধানে যাতায়াত করতে হয়। কারণ এই এলাকাগুলিতে সবচেয়ে বেশি ট্রলার দুর্ঘটনা ঘটছে। এদের মধ্যে রক্তদ্বীপের চর সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, রাজ্যের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার মতো সুন্দরবন অঞ্চলের কাকদ্বীপ মহকুমার নদী পথ একই নয়। এখানকার মৎস্যবন্দর থেকে গভীর সমুদ্রে যাতায়াত করতে গেলে প্রায় সাতটি চ্যানেল ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় উপকূল থেকে গভীর সমুদ্রে যে কোনো পথ ধরে সরাসরি যাতায়াত করা যায়। তাই এখানে দক্ষ মাঝি ছাড়া ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাতায়াত করা বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জ।