Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কমিশনের কোপে নাম বাদ, গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন মৎস্যজীবী-মতুয়ারা

কাকদ্বীপ বন্দরে নদীর ধারে বুঁদ হয়ে মাছের জাল সারাই করছিলেন এক মৎস্যজীবী। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন মহিলা। এসআইআরে নাম উঠেছে কি না, জানতে চাইলে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন সবাই।

কমিশনের কোপে নাম বাদ, গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন মৎস্যজীবী-মতুয়ারা
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, কাকদ্বীপ: কাকদ্বীপ বন্দরে নদীর ধারে বুঁদ হয়ে মাছের জাল সারাই করছিলেন এক মৎস্যজীবী। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন মহিলা। এসআইআরে নাম উঠেছে কি না, জানতে চাইলে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন সবাই। রাগত স্বরে জবাব দিলেন, সব নথি দিলেও নাম ওঠেনি! বিজেপি আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, সবার নাম উঠে যাবে! কোথায় কী! পুরো ভাঁওতাবাজি। মৎস্যবন্দর ছাড়িয়ে আরেকটু এগতেই শোনা গেল একই অভিযোগ। একজন বললেন, ‘আরে মশাই, ১৫-২০ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি, এবার তো ভোটকেন্দ্রে ঢোকার ছাড়পত্রটাই কেড়ে নিল ওরা।’ একারণে পদ্মপার্টিকেই দুষছেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নাগরিকরা। তাঁদের মধ্যে একটা বড়ো অংশই মৎস্যজীবী। আছেন মতুয়াদের একাংশও। বিজেপির বুথস্তরের নেতাদের কেউ কেউ এই ক্ষোভের কথা স্বীকার করেছেন।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বিধানসভা এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। কাকদ্বীপে এটাই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চর্চা চলছে মৎস্যজীবী মহলেও। শংকর দাস, মমতা দাস, গণেশ মাইতির মতো অনেক মৎস্যজীবী এবার ভোট দিতে পারবেন না। তাঁরা বলেন, পাশের বাড়ির সবার নাম উঠল অথচ আমাদের নাম নেই। কেউ বললেন, আমার আর বাবার নাম উঠলেও স্ত্রী ও মায়ের নাম বাদ গিয়েছে। গোটা কাকদ্বীপে এমন প্রচুর মানুষ পাওয়া যাবে। ত্রিলকচন্দ্রপুর, মাইতি চক, পূর্ব ও পশ্চিম গঙ্গাধরপুর সহ একাধিক গ্রামে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই একটা সময় বাংলাদেশ থেকে এপারে চলে এসেছেন বলে দাবি বিজেপির। তাঁরা বাঙালি হিন্দু। তাহলে তাঁদের নাগরিকত্ব দিতে কেন্দ্র কি উদ্যোগ নেয়নি? লক্ষ্মীকান্ত দাস নামের এক মৎস্যজীবী বলেন, ‘ওরা মুখেই বড়ো বড়ো কথা বলে। কাজের কাজ কিছুই করেনি। তাই আজ ভোটার তালিকায় আমাদের নাম নেই। এই ইস্যু ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন। তাই এসআইআর প্রসঙ্গ থেকে নজর ঘোরাতে রাজ্য সরকারের খামতি তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন বিজেপির নেতারা।
এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিজেপির কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দীপঙ্কর জানাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এই কেন্দ্রের প্রাক্তন আহ্বায়ক তথা বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের প্রতি আমরা সহমর্মী। কিন্তু তালিকায় নাম ডিলিট হওয়ার পর আমাদের বিএলএ-২ অনেকের বাড়ি গিয়ে নাগরিকত্বের জন্য ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করেছেন। এবার কারও ব্যক্তিগত অভিযোগ থাকতেই পারে। ভোট মিটে গেলে তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম তুলতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে বিজেপি।
তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে বলেছিলেন, মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তাঁদের সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে। কাকদ্বীপে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ থাকেন। তাঁদের একাংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। বিজেপি কোনো কথা রাখেনি। এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন, বিজেপি তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তৃণমূল প্রথম থেকেই মৎস্যজীবীদের পাশে ছিল, আজও আছে। বিজেপি উল্টে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। সিপিএম প্রার্থী নারায়ণ দাসও বিজেপিকে দুষে বলেন, ‘রোহিঙ্গা তাড়ানোর নাম করে আজ মতুয়া, মৎস্যজীবীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বিজেপির উপর ভোটারদের ক্ষোভ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ