Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হরিরামপুরের গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দিঘিতে চলছে দেদার মাছচাষ, আন্দোলনে নামছে কংগ্রেস

হরিরামপুরের বৈরাঠা গ্রাম পঞ্চায়েতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দিঘি ঘিরে বড়সড় অভিযোগ উঠল। কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেদার মাছচাষ চলছে, এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হরিরামপুরের গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দিঘিতে চলছে দেদার মাছচাষ, আন্দোলনে নামছে কংগ্রেস
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: হরিরামপুরের বৈরাঠা গ্রাম পঞ্চায়েতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দিঘি ঘিরে বড়সড় অভিযোগ উঠল। কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেদার মাছচাষ চলছে, এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে হরিরামপুর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। দিঘি দখলের প্রতিবাদে বুধবার ভূমি সংস্কার দপ্তর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়েছে কংগ্রেস।টেন্ডার হয়নি, তবু চলছে কোটি টাকার ব্যবসা? জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দীঘি জেলা জলকর কমিটির অধীনে। আদালতের পুরনো মামলার জেরে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই প্রভাবশালীদের একাংশ স্থানীয় একাংশের সহযোগিতায় বড় আকারে মাছ চাষ করছে বলে অভিযোগ।দুই দিঘি থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হলেও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ঘরে রাজস্ব ঢুকছে না এমনই দাবি অভিযোগকারীদের। 

Advertisement

দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে প্রতিটি দিঘি থেকে বছরে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জলকর রাজস্ব আদায় হতো। দিঘির আশপাশের বাসিন্দারা বিষয়টি জানালেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। ভূমি সংস্কার দপ্তর অবশ্য স্বীকার করেছে, দিঘিতে মাছ চাষ হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের দপ্তরে ডাকা হলেও প্রকৃত মালিকের সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি।
হরিরামপুর ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক দীপঙ্কর রায় বলেন, অবৈধ মৎস্য চাষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হয়েছে। আদালতের পুরনো মামলার কারণে জেলা জলকর কমিটি কোনো টেন্ডার দেয়নি। তবুও বাস্তবে মাছ চাষ চলছে। বিষয়টি জেলা দপ্তরে জানানো হয়েছে। যারা চাষ করছে তাদের ডেকে মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হরিরামপুরের কংগ্রেস নেতা সোনা পাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মোটা টাকার লেনদেনে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি চলছে। সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না, অথচ এক শ্রেণির প্রভাবশালী অবৈধভাবে লাভ তুলছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। অন্যদিকে জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, সরকার উন্নয়ন করছে, তার জন্য রাজস্ব দরকার। সরকারি সম্পত্তিতে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা মেনে নেওয়া যায় না। স্বচ্ছতার সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
সরকারি সম্পত্তি, কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সব মিলিয়ে হরিরামপুরের দুই ঐতিহ্যবাহী দিঘি এখন প্রশাসনিক নজরে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ