Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আগে পেট, পরে ওসব’, কাজ ছেড়ে অমিত শাহের নির্বাচনি সভায় এলেনই না চা শ্রমিকরা

সুকনা হাইস্কুলের পাশে পাকা রাস্তা। পূর্ব দিকে কিছুটা এগলেই মোহরগাঁও গুলমা চা বাগান। বিশাল এলাকা। দিগন্ত জোড়া সবুজ চা গাছ

‘আগে পেট, পরে ওসব’, কাজ ছেড়ে অমিত শাহের নির্বাচনি সভায় এলেনই না চা শ্রমিকরা
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, মোহরগাঁও (গুলমা): সুকনা হাইস্কুলের পাশে পাকা রাস্তা। পূর্ব দিকে কিছুটা এগলেই মোহরগাঁও গুলমা চা বাগান। বিশাল এলাকা। দিগন্ত জোড়া সবুজ চা গাছ। কেউ বাগানে ফেন্সিং দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। আবার কেউ কীটনাশক স্প্রে করে বাগানের ধারে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্বাচনি জনসভা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তাঁদের বক্তব্য, আগে পেট, পরে রাজনীতি। কাজেই, বাগানে কাজ থাকায় ওই  সভায় যাইনি।

Advertisement

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সুকনা হাইস্কুল। এদিন দুপুরে সেখানেই নির্বাচনি জনসভা করেন শাহ। তাতে পাহাড় ও সমতলের মানুষরা ভিড় করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মাঠের পাশেই মোহরগাঁও চা বাগান। মাটিগাড়া ব্লকে বড়ো চা বাগানগুলির মধ্যে যা অন্যতম। বাগান, ফ্যাক্টরি, শ্রমিক ও বাগানের আধিকারিকদের কোয়ার্টার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রভৃতি রয়েছে। বাগানের কিছু অংশে লাগানো হয়েছে নতুন গাছ। আর একাংশে পুরনো গাছ পরিচর্যা করার কাজ চলছে।
এদিন দুপুরে পুরনো বাগানের ধারে ফেন্সিং বসানোর কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। অমিত শাহের সভা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তাঁদের মধ্যে হরি মুর্মু নামে একজন বললেন, দাদা কর্মই ধর্ম। কাজ না করলে পেট চলবে  না। তাই আগে কর্ম, পেট, সংসার। পরে রাজনীতি। এজন্যই বাড়ির কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভা করলেও যাইনি। কারণ, সভার সময় বাগানে কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এখনও ব্যস্ত। বাকি তিন শ্রমিকও ঘাড় নেড়ে হরিকে সমর্থন করেন।
পাশেই রাস্তার ধারে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএমের ঝান্ডা। প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার, ফ্লেক্সে সেজে উঠেছে গোটা এলাকা। এর থেকেই স্পষ্ট এলাকায় ছড়িয়েছে ভোটের উত্তাপ। সেখান থেকে কয়েক পা এগতেই রেল ব্রিজ। নীচে রাস্তায় জটলা পাকিয়ে ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদের পরনে গেঞ্জি ও প্যান্ট। হাতে স্প্রে মেশিন। বলেন, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও বাগানে পোকার উপদ্রব রয়েছে। পোকা ধরা গাছের পাতা কেটে দেওয়া হচ্ছে। তাই সকাল থেকে বাগানে ওষুধ স্প্রে করছি। কাজ না করলে হাজিরা মার খাবে। পেটও  চলবে না। তাই ওই সভায় যেতে পারিনি।
ভোটের হাওয়া কী রকম? রোহিত মালপাহাড়ি নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা লালপার্টির সমর্থক। এখনও বাড়ির সদস্যরা সিপিএম সদস্য। আমরা লড়াই করছি। সঙ্গে সঙ্গে সুখলাল নামে আর এক যুবক বলেন, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির হাওয়া রয়েছে। দুই ফুলের মধ্যেই মূল লড়াই। অনিল ওরাওঁ বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী, কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা দিচ্ছেন। সেজন্য এখানে জোড়াফুলের হাওয়াই জোরালো। সকলেরই বক্তব্য,এখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকলেও কোনো ঝামেলা নেই। 
• জনসভায় অমিত শাহ। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ