Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটের পর প্রথম কর্মসূচি, সঙ্গীহীন মমতা, হাজির জনাকয়েক এমপি-বিধায়ক, দেখা নেই ‘বিশ্বস্ত’দের

ভোটের পর প্রথম কর্মসূচিতে সঙ্গীহীন মমতা। দেখা নেই বিশ্বস্তদের। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন তিনি? বিস্তারিত পড়ুন।

ভোটের পর প্রথম কর্মসূচি, সঙ্গীহীন মমতা, হাজির জনাকয়েক এমপি-বিধায়ক, দেখা নেই ‘বিশ্বস্ত’দের
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় এক মাস পর মানুষের দরবারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ‘বিরোধী’ মমতার কথা শুনতে কর্মী-সমর্থকরা তেমন ভিড় জমালেন না। দেখা গেল না তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদদের বড়ো অংশকেও। নেই একদা মমতার পাশে দাঁড়ানো ‘বিশ্বস্ত’ নেতারাও। অথচ হিসাব মতো এটাই ছিল ভোটের পর মমতার নেতৃত্বে বিরোধী তৃণমূলের পথে নামার এবং আন্দোলন গড়ে তোলার প্রথম কর্মসূচি। কার্যত ‘সঙ্গীহীন’ মমতা কিছু কর্মী-সমর্থকের সামনে বলে গেলেন, ‘আমাকে আটকাতে পারবে না। যেখানে জায়গা পাব বসে যাব।’

Advertisement

ধরনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন তারকেশ্বরের মাটি থেকে। তিনি বলেন, ‘শুনলাম। কী দুরবস্থা! দেড়শো লোকও হয়নি। তৃণমূল দলটা ফলতা হয়ে গিয়েছে।’ ফলতায় চতুর্থ হওয়া তৃণমূল এদিন ছিল দৃশ্যতই একাকী। এদিন দুপুরে ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির অদূরে অব্যবহৃত বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানে বসেন তৃণমূল নেতৃত্ব। পরে যোগ দেন মমতা। তার আগে তিনি বি আর আম্বেদকর ও মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মাল্যদান করেন। বিজেপি আবার তাদের এক্স হ্যান্ডলে ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেছে, মমতা জুতো পরেই আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়েছেন। মমতা তারপরেই সটান চলে আসেন ধরনা অবস্থানে। বাড়ি থেকে আনা মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হটাকে যায়েঙ্গে।’ বলেন, ‘বাড়ির সামনে এসে লুম্পেনরা বলছে, হার্ট অ্যাটাক করে মর! আমি মরছি না।’ তাঁর অভিযোগ, বেআইনিভাবে বিধায়ক, কাউন্সিলারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হেলমেট না পরলে ওঁর মাথায় লাগত।’ বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগও তোলেন তিনি। বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা দেওয়া ও সই ইস্যু নিয়েও সরব হন মমতা। তৃণমূল আমলে সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র কিংবা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নানদের বিরোধী নেতার মর্যাদা দেওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। মনে করিয়ে দেন, ‘শাসক হবে নম্র। আপনার দিল্লির সরকার বেশিদিন থাকবে না।’ হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। নবান্ন-লালবাজার ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘দেখুন কার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। এসব তো আপনাকেই দেখতে হবে।’ রানি রাসমণি রোডে কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো দল ওখানে কর্মসূচি করলেই আমি আদালতে যাব।’
উপস্থিত কিছু সমর্থক মমতার বক্তব্যের মাঝেই স্লোগান দিতে শুরু করেন। এতে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। বারবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলছিলেন, ‘বাড়ি থেকে হ্যান্ড মাইক এনেছি। সতরঞ্চি সরিয়ে দিয়েছে। লোকজন আসতে দিচ্ছে না।’ আগামী দিনে এলাকায় এলাকায় মনীষীদের মূর্তিতে মাল্যদান করার নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু এই নির্দেশ, এই হুংকার শুনলেন কারা? আশপাশে দেখা গেল অশোক দেব, মদন মিত্র, অসীমা পাত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, অখিল গিরি, ইন্দ্রনীল সেন, ফিরহাদ হাকিমকে। কিন্তু সেই মুখগুলো, যাঁদের ‘বিশ্বস্ত’ বলা হতো, তাঁরা উধাও। উপস্থিত কুণাল ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মমতা তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।  ছবি: পিটিআই

সম্পর্কিত সংবাদ