


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একজন লিভিং ডোনার বা জীবিত ব্যক্তির শরীরের হাড় অন্য শিশুর শরীরে প্রতিস্থাপন! নজিরবিহীন সেই চিকিৎসা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। পিজি সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’সপ্তাহ আগে অপারেশন হয়েছে শিশুটির। সে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। নাম মহসিন রাজা। মঙ্গলবার তাকে চেকআপে নিয়ে আসা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, লিভিং ডোনারের হাড় শিশুটি শরীর গ্রহণ করেছে। কোনো ধরনের সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যাও ধরা পড়েনি। জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ওই নাবালকের বাম কাঁধের নীচে একটি জায়ান্ট সেল টিউমার হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, টিউমারটি যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বাম কাঁধের নীচে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটারের গ্যাপ বা ফাঁক তৈরি হওয়ার কথা। এত বড় টিউমার হাড়জুড়ে ছিল, সেটি বাদ দিলে একটি বিরাট বড় শূন্যস্থান তৈরি হয়ে যেত শিশুটির বাম কাঁধের নীচে। ফলে সারা জীবনের মতো শরীরের ওই অংশ বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই পরিস্থিতিতে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসকেরা বিকল্প ভাবনা-চিন্তা করে নজিরবিহীন অপারেশন সেরে ফেলেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এতদিন এমন ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রোগীর শরীরের অন্য জায়গার হাড় নিয়েই তা প্রতিস্থাপন করা হতো। সেটা যেমন একদিকে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, পাশাপাশি তখন শরীরের অন্য অঙ্গে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকত। কিন্তু, পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম বোন ব্যাংকে থাকা অপর কোনো জীবিত ব্যক্তির শরীরের হাড় ব্যবহার করে এমন অপারেশন করা হয়েছে। এই অপারেশন করেছেন পিজির অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান ডক্টর তন্ময় দত্ত এবং ভিজিটিং অংক সার্জেন্ট ডাক্তার কৌশিক নন্দী সহ তাঁদের টিম। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, গত ১১ মার্চ বাচ্চাটির অপারেশন হয়। বাচ্চাটি শরীরে ওই লিভিং ডোনারের হাড় লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই নাবালকটি এদিন চেকআপে এসেছিল। দেখা গিয়েছে, ছেলেটির হাড় ওই ডোনারের হাড়ের সঙ্গে মিলতে শুরু করে দিয়েছে। অর্থাৎ ছেলেটির শরীর দাতার হাড় গ্রহণ করতে আরম্ভ করেছে। সংক্রমণ নেই। প্রথমদিকে অপারেশনের পরে ছেলেটির ব্যথা ছিল। সেই ব্যথাও চলে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পিজির হাসপাতালের অ্যানেক্স বিল্ডিং শম্ভুনাথ পণ্ডিতে রয়েছে এই বোন ব্যাংক। সেখানে লিভিং ডোনার অর্থাৎ জীবিত ব্যক্তির অস্থি সংরক্ষণ করা ছিল। অর্থাৎ কারও হাঁটু বদল করা হলে সেই হাড় এতদিন যেখানে ফেলে দেওয়া হত, সেটাই সংরক্ষণ করা হচ্ছে পিজিতে। নিয়মমাফিক আইনি পদ্ধতি মেনেই। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন মানুষের শরীরের ২৯টি হাড় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল, সেগুলি ব্যবহার করা যাবে কি না। পিজিতে ল্যাব টেস্টিং করে প্রমাণ হয়, এইগুলি মানুষের শরীরে ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে পিজি এই বিষয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ, যাতে কোনো ধরনের অর্থোপেডিক সার্জারিতে অস্থি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে বোন ব্যাংক থেকে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনই এক লিভিং ডোনারের সেই হাড় ওই শিশুর শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে।