Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রথম ল্যাপারোস্কোপি অপারেশনে সাফল্য

চার জেলার সংযোগস্থল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আগেই এসেছিল ল্যাপারোস্কোপ যন্ত্র। বৃহস্পতিবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ওই যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম সফল অস্ত্রোপচার হল

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রথম ল্যাপারোস্কোপি অপারেশনে সাফল্য
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: চার জেলার সংযোগস্থল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আগেই এসেছিল ল্যাপারোস্কোপ যন্ত্র। বৃহস্পতিবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ওই যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম সফল অস্ত্রোপচার হল। রোগী এখন সুস্থ।
কাটোয়ার সিঙ্গি পঞ্চায়েতের পেকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ খাতুনের ল্যাপারোস্কোপের সাহায্যে অস্ত্রোপচার করা হয়৷ তাঁর সন্তান হওয়ার সমস্যা ছিল৷ চল্লিশ মিনিটের মধ্যেই তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল৷ তিনি বলেন, এত সুন্দর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে যা অভাবনীয়৷ আমরা স্ক্রিনের মাধ্যমে সবটাই দেখতে পাচ্ছিলাম৷ আগামী দিনে বড় অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও এই যন্ত্রের সাহায্যে নেব৷ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, আমাদের হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে ল্যাপারোস্কোপ যন্ত্র বসানো হয়েছে৷ পরিকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। রোগীদের সুবিধা হল। 
ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে হার্নিয়া, গল ব্লাডার, টিউমার, পিত্তথলির পাথর সহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করা যায়৷ কলকাতায় এখন এই পদ্ধতিতে ক্যানসারাক্রান্ত রোগীদেরও অস্ত্রোপচার কর হয়৷ ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করতে গেলে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা এবং বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়৷ এতে সাধারণ অস্ত্রোপচারের চেয়ে ঝুঁকি কম হয়। রক্তপাত কম হয়৷ রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে কাজে ফিরতে পারেন৷ তাছাড়া  অস্ত্রোপচার নিখুঁত ও নিরাপদ হয়। এছারা রোগীর শরীরের ক্ষতের আকারও ছোট হয়৷ এখন বেশির ভাগ জায়াগাতেই এমন পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে৷ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে হার্নিয়া, গল ব্লাডারের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে বহু টাকা খরচ হয়৷ কিন্তু গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে জমিজমা বিক্রি করে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। তাই এবার   মহকুমা হাসপাতালে ল্যাপারোস্কোপিক  পদ্ধতি চালু করা হয়েছে৷ 
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার একাংশ নির্ভরশীল। প্রতি মাসে কাটোয়ায় গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ জন রোগীর বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়৷ হাসপাতালে তিনজন শল্য চিকিৎসক রয়েছেন৷ আগেই হাসপাতালে মুর্মূষু রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে এইচডিইউ বিভাগ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় হাজারের কাছাকাছি রোগীকে আউটডোরে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়৷ 
হাসপাতালে নতুন আরও একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন ভবনের চারতলায় ১৮টি বেড সম্পন্ন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট রয়েছে৷ সেখানেই আধুনিক এমন পদ্ধতি চালু হোক সবাই চাইছেন৷ এছাড়াও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বিভাগ ওই নতুন ভবনে চালু করার কথা। এখনও তা চালু হয়নি। তবে এদিন প্রথম ওই যন্ত্রের সফল ব্যবহার হওয়ায় খুশি রোগীর পরিজনরা। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ