Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফিরহাদের পদত্যাগে মনোবল নড়েছে হুগলির পুর নেতৃবৃন্দের, জেলায় প্রবল হচ্ছে পদত্যাগের ভাবনা

ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগে হুগলির পুর নেতাদের মনোবল নড়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল, চেয়ারম্যানরা দ্বিধায়। বিস্তারিত পড়ুন।

ফিরহাদের পদত্যাগে মনোবল নড়েছে হুগলির পুর নেতৃবৃন্দের, জেলায় প্রবল হচ্ছে পদত্যাগের ভাবনা
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই হুগলির পুরসভাগুলিতে ডামাডোল শুরু হয়েছিল। সেই ডামাডোলের জেরে চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী পদত্যাগ করেন। কিন্তু তারপরেও হুগলির সিংহভাগ পুরসভায় কাজ চালিয়ে যেতে চাইছিলেন তৃণমূলের পুরকর্তারা। কিন্তু কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম (ববি) ইস্তফা দেওয়ায় জেলার পুরসভাগুলির পরিস্থিতিও বদলে গিয়েছে। হুগলির বিভিন্ন পুরসভার তৃণমূল কর্তারা এখন দ্বিধাগ্রস্ত। এমনকি, সেই দ্বিধার আঁচ লেগেছে হুগলি জেলা পরিষদেও। এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে কাউন্সিলারদের গ্রেপ্তার হওয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ। ফলে, যে কোনোদিন হুগলির সমস্ত পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে পারেন। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

তবে চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করুন বা না করুন, বিভিন্ন পুর এলাকায় নাগরিক মহলে বাড়তি উদ্বেগের পরিসর তৈরি হয়েছে। মূলত, প্রাত্যহিক পরিষেবা নিয়েই উদ্বিগ্ন তাঁরা। বাসিন্দাদের দাবি, চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করলেই জেলা প্রশাসনের কর্তারা প্রশাসক হয়ে বসবেন। তাঁদের নিজস্ব কাজের বাইরে পুরসভার প্রাত্যহিক কাজ পরিচালনা করতে হবে। তাতে সমস্যা বাড়বে। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, দল যে নির্দেশ দেবে, তা মেনেই পদক্ষেপ করব। যতদিন থাকব, ততদিন মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করব। একই কথা বলেছেন, উত্তরপাড়ার দিলীপ যাদব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চেয়ারম্যান বলেন, ফিরহাদ হাকিমের মতো পোড়খাওয়া নেতা যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে আমি কোন ভরসায় থাকব? স্থানীয় চাপের মুখোমুখি তো আমাদেরই হতে হচ্ছে। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, বোর্ড ভেঙে ক্ষমতা দখলের তৃণমূলী সংস্কৃতি আমদানি করা হবে না। তবে জনরোষের মুখে পড়ে যদি তৃণমূলের চেয়ারম্যানরা পালিয়ে যান, তাহলে কিছু করার নেই।
ডানকুনি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১২টি পুরসভা রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকার সব বিধানসভা আসনেই বিজেপি জিতেছে। এই অবস্থায় প্রথম ভদ্রেশ্বর পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। তারপরেই চন্দননগরের মেয়র সব কাউন্সিলারদের নিয়ে পদত্যাগ করেন। দু’টি পুরসভাই চন্দননগর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। ওই ঘটনাপ্রবাহে অন্য পুরকর্তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। যদিও তাঁরা পদত্যাগ করার মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপের কথা ভাবেননি। কিন্তু দলের অন্যতম পরিচিত ও দাপুটে মুখ ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ বিভিন্ন পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলারদের নড়িয়ে দিয়েছে। তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না পদত্যাগ করবেন, না কাজ চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি, অন্য একটি বিষয়ও সামনে আসছে। অধিকাংশ জায়গাতেই কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশে নেমেছেন বিজেপি কর্মীরা। সময়ের সঙ্গে সেই ক্ষোভের আঁচ বাড়ছে। সেটিও উদ্বেগে রেখেছে পুর নেতৃত্বকে। 

সম্পর্কিত সংবাদ