নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সমস্যা জেনে নিয়ে সেই মতো উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে রাজ্য। গোটা রাজ্যের সঙ্গে হাওড়া পুরসভা এলাকাতেও জোরকদমে চলছে রাস্তাঘাট-নিকাশির সংস্কার, আলোকায়ন, পানীয় জলের ব্যবস্থা ইতাদি নানা কাজ। কিন্তু গোল বেধেছে অন্যত্র! এই কর্মসূচি থেকে গৃহীত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরের তরফে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে হাওড়া পুরসভাকে। কিন্তু অভিযোগ, প্রশাসনিক গড়িমসি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কবলে পড়ে বরাদ্দ হওয়া সেই টাকার সামান্য অংশই মেটানো হয়েছে ঠিকাদারদের। টাকা না পেয়ে থমকে গিয়েছে কাজের গতি। এই অবস্থায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর হস্তক্ষেপে ফের গতি আসতে চলেছে এই কাজে। ঠিকাদারদের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সরলীকরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পুরমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থানে জট কাটানোর তৎপরতা শুরু হয়েছে হাওড়া পুরসভার অন্দরে। বাকি কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করতে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে।
রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো হাওড়া শহরে আয়োজিত ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরগুলিতে এসে সাধারণ মানুষ তাদের হাজারও নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তার ভিত্তিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর হাওড়া শহরে ২২০০টির বেশি কাজের অনুমোদন দেয়। বরাদ্দ করা হয় ৪৬ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা। নিয়ম হল, অর্থদপ্তর থেকে বরাদ্দ অর্থ পুরসভার অর্থবিভাগে এলে তারাই বকেয়া মিটিয়ে দেবে ঠিকাদারদের। কিন্তু রাজ্য থেকে যথারীতি অর্থ বরাদ্দ হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এত দিনে ঠিকাদারদের মাত্র ৪ কোটি টাকার বিল মেটানো সম্ভব হয়েছে। বকেয়া অর্থ না পেয়ে ঠিকাদাররা অনেক জায়গায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এই কারণে ইতিমধ্যে দু’দফায় কাজ স্থগিত রাখা হয় বলে খবর।
বর্তমানে হাওড়ার ৯০০টির বেশি কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার কেএমডিএর দপ্তরে জরুরি বৈঠক ডাকেন পুরমন্ত্রী। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী সহ পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর এবং হাওড়া পুরসভার পদস্থ আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সেই বৈঠক সূত্রে খবর, বিল পরিশোধে অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ফিরহাদ। শুক্রবারের মধ্যেই ২২ কোটি টাকার বিল প্রস্তুত করে তা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেই সঙ্গে দ্রুত প্রায় ৯০০টি কাজের দরপত্র আহ্বান ও ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গোটা প্রক্রিয়া তদারকির জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেন গৌতম চৌধুরীকে। বিধায়ক বলেন, ‘নাগরিক পরিষেবার কাজ নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ও পুরমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। অবশেষে জট কেটে গেল। বাকি থাকা কাজগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। শহরবাসী সুফল পাবেন।’ নিজস্ব চিত্র