ডায়মন্ড হারবার গার্লস হাই স্কুল
ডায়মন্ড হারবার গার্লস হাই স্কুল
আমাদের গর্বের স্কুল ডায়মন্ড হারবার গার্লস হাই স্কুল। ডায়মন্ড হারবার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই স্কুল। ১ জানুয়ারি ২০২৫ সালে গৌরবময় ১২৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ঐতিহ্যমণ্ডিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ডায়মন্ড হারবারের সমাজ সচেতন শিক্ষানুরাগী মানুষজন নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগী হন। পণ্ডিত রাখালচন্দ্র তেওয়ারি মহাশয়ের প্রচেষ্টায় ১৯০০ সালে পুরাতন বাজারে একটি মাটির ঘরে বিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়। ১৯০৮ সালে পাঠশালাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। তারপর ১৯২৩ সালে মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। ইতিমধ্যে শিক্ষা দপ্তরের তরফে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য পুরাতন বাজার এলাকায় বিশ শতক জমি দেওয়া হয়। সেই জমির উপর একটা পাকা বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হয়। এরপর ১৯৩৫ সালে জুনিয়র হাই স্কুল হিসেবে এবং ১৯৪৮ সালে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় হিসেবে সরকারি অনুমোদন লাভ করে। ১৯৬৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে কলা বিভাগ যুক্ত হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ১৯৩৮ সালে তৎকালীন মহকুমা শাসকের প্রচেষ্টায় জমি অধিগ্রহণ করে স্কুলকে দান করা হয়। ১৯৪২ সালে বিদ্যালয়টি নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়। আমাদের কর্ম পরিধির কেন্দ্রে রয়েছে ফুলের মতো ছাত্রীরা। তাদের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সুশৃঙ্খল ও মনোরম পরিবেশ, আকর্ষণীয় শ্রেণিকক্ষ, খেলাধুলোর সুপরিসর মাঠ, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, অডিটোরিয়াম, স্মার্ট ক্লাসরুম এই বিদ্যালয়কে অনন্য করে তুলেছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫ জন শিক্ষিকা এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন ছাত্রী রয়েছে। প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আমাদের ছাত্রীরা বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেয়।
—মানসী মণ্ডল, প্রধান শিক্ষিকা
সচেতনতার প্রয়োজন
যেকোনও আনন্দ উদ্যাপনের সময় বাজি ফাটানো খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। শিশু, কিশোর ও যুবাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়। উৎসব উপলক্ষ্যে পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন সকলে মিলিত হয়ে বাজি ফাটানো যেন আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই শব্দবাজির কারণে আমাদের প্রভূত ক্ষতি হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নানান সমস্যার সম্মুখীন হন। আতসবাজির ধোঁয়াও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই বাজি ফাটানো আগে সকলকে সচেতন হতে হবে। তবে, বাজি পোড়ানো ছাড়া দীপাবলির আনন্দ পূর্ণ হয় না। তাই বাজি পোড়াব। তবে, কোনওমতেই শব্দবাজি ফাটাব না। ফুলঝুরি আর রংমশাল আমার প্রিয় বাজি। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করব।
—সুহানা খাতুন, ষষ্ঠ শ্রেণি
নিরাপদে থেকে আনন্দ উপভোগ
আতসবাজি হল বিনোদনের উপকরণ। যা পুড়িয়ে মানুষ আনন্দ পায়। বিশ্বজুড়ে বহু বছর ধরে বিভিন্ন খেলা, পুজো, উৎসব, আনন্দ অনুষ্ঠানে বাজি পোড়ানোর একটি ঐতিহ্য চলে আসছে। কালীপুজোয় আমিও ভাইবোনদের সঙ্গে বাজি পোড়াই। তুবড়ি আমার প্রিয় বাজি। মনে হয় যেন, আলোকের ঝর্ণা ধারায় পৃথিবী ধুয়ে যাচ্ছে। তুবড়ির পাশাপাশি প্রচুর চরকি কিনেছি। সেগুলি বাড়ির ছাদে পোড়াব। পাড়ার পুজো মণ্ডপে আনন্দ করব। বাজি ফাটালে আকাশে যে রংবেরঙের ঝলকানি দেখা যায়, তা যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন। আতসবাজি পোড়ানোর আনন্দ যেমন আছে, তেমনই রয়েছে এর ক্ষতিকর প্রভাব ও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা। কালীপুজোয় আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি বাজি পোড়ানোর সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা অবলম্বন করা। সঠিক ও নিরাপদ বাজি ব্যবহার করা এবং পরিবেশের ক্ষতি থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।
—অনামিকা মণ্ডল, অষ্টম শ্রেণি
বাজির উৎসব
আতসবাজি যেকোনও আনন্দ অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এর বর্ণিল আলোকচ্ছটা উৎসবকে অন্য মাত্রা দেয়। একসময় কালীপুজো মানেই ছিল বাবার সঙ্গে বাজি পোড়ানো। তবে একবার বাজির ধোঁয়ার শ্বাসকষ্ট হওয়ায় আর সেভাবে বাজি পোড়াই না। যারা আতসবাজি পোড়াতে ভালোবাসে তাদের বলব, সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করে যেন আনন্দ উপভোগ করে। বাজি বেশি পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। মানব জীবনে এর কুপ্রভাব লক্ষ করা যায়। তবুও কালীপুজো মানে বাজির উৎসব। তাই একটু-আধটু বাজি না পোড়ালে মন ভালো লাগে না। তাই আনন্দ করব, কিন্তু নিজের বা পরিবেশের ক্ষতি করে নয়। বাজি পোড়ানোর পাশাপাশি রয়েছে মা কালীর আরাধনা। পাড়ায় আমাদের বাড়ির সামনেই কালীপুজো হয়। এবছর খুব সুন্দর প্যান্ডেল করা হয়েছে। কালীপুজো শেষ হতে মাঝ রাত হয়ে যায়। অতক্ষণ আমরা বন্ধুরা পুজো মণ্ডপে থাকি। অবশ্য, মা আমার সঙ্গে থাকেন। খুব আনন্দ হয়। নৈহাটির বড়মা কালী মন্দিরের কথা অনেক শুনেছি। আমার খুব ইচ্ছা বড়মা দর্শনে যাব। বাবাকে সে কথা বলেওছি। তবে, কালীপুজোর দিন ওখানে খুব ভিড় যাওয়া যাবে না। অন্য একদিন নিয়ে যাবে বলে বাবা কথা দিয়েছেন।
—শরণ্যা চক্রবর্তী, নবম শ্রেণি
ফুলঝুরি, তারাবাজি, রংমশাল
আতসবাজির ঝলকানি ও রঙিন আলো আমাদের উৎসবের
আনন্দকে আরও বেশি মুখরিত করে তোলে। দীপাবলির আনন্দঘন উৎসবে আকাশ ভরে ওঠে রঙিন আলোয়। আমরা বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে বাজি পোড়াই। সেই আনন্দ লিখে প্রকাশ করা যাবে না। ফুলঝুরি, তারাবাজি, রংমশাল পুড়িয়ে আমরা দীপাবলি উদ্যাপন করি। অমাবস্যার অন্ধকারে কেটে যায় রঙিন আলোকচ্ছটায়। ছোটবেলায় সাপ বাজি পোড়াতে আমি খুব ভালোবাসতাম। অবশ্য, এখন আর সাপ বাজি পোড়াই না। আমার এক কাকু তুবড়ি তৈরি করতে পারে। গন্ধক, সোরা, কাঠকয়লা, লোহাচূর ইত্যাদি জোগাড় করে এ বছর তুবড়ি তৈরিতে লেগে পড়েছিল। আমাকেও তার মধ্যে থেকে কয়েকটা তুবড়ি দেবে বলে কথা দিয়েছে। কীভাবে আঙুল দিয়ে ঠেসে ঠেসে মাটির খোলে ভরছিল, আমি পাশে বসে দেখছিলাম। তুবড়ি তৈরি দেখে আমার খুব মজা লেগেছে। কাকু বলছিল, তুবড়িতে অ্যালুমিনিয়াম চূর্ণ দিলে যে আগুনের ফোয়ারা ওঠে সেটা ধবধবে সাদা দেখায়। তবে, শব্দবাজি ফাটানোর চিরকাল বিরোধী আমি। আমরা কখনও চাই না, আমার আনন্দ অন্যের নিরানন্দের কারণ হয়ে উঠুক। তাই কখনও দোদোমা, চকলেট বোম, কালিপটকার মতো বাজি পোড়ানো উচিত হয়। শব্দবাজিতে যে শুধু বাচ্চা ও বয়স্করা সমস্যায় পড়ে তা নয়, বাড়ির পোষ্যরা শব্দবাজির তাণ্ডবে অস্থির হয়ে যায়।
—তৃষা মণ্ডল, দশম শ্রেণি
রকেট আর তুবড়িতেই আনন্দ
দীপাবলির আনন্দ আতসবাজির রোশনাই ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। বাজি পোড়ানো নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও সমস্ত সতর্কতা মেনে অল্প আধটু বাজি আমিও পোড়াই। রকেট আর তুবড়ি পোড়াতে আমার খুব ভালো লাগে। কালীপুজোর সন্ধেবেলা বন্ধুরা মিলে ছাদে উঠে যাই। আমাদের বাড়ির একপাশে ফাঁকা মাঠ আছে। সেই দিক করে রকেট মানে হাওয়াই বাজি ওড়াই। এছাড়াও তুবড়ি আর চরকির রোশনাইয়ে অন্ধকার কেটে যেন দিন হয়ে যায়। তবে, বাবার কথা মতো সব ধরনের সতর্কতা মেনে চলি। ছাদে একটা বালতিতে আগে থেকে জল রেখে দিই। ফুলঝুরি পোড়ানোর পরই তা জলে ফেলে দিই। বাজি পোড়ানোর পাশাপাশি বন্ধুরা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করি।
—পৌলমী হালদার, একাদশ শ্রেণি