Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হেলায় নষ্ট হচ্ছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, পরিদর্শনে এসে বিরক্তি প্রকাশ দমকল কর্তাদের

কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরেও হুঁশ ফেরেনি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অত্যাধুনিক হাইড্রেন্ট সিস্টেম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা।

হেলায় নষ্ট হচ্ছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা,  পরিদর্শনে এসে বিরক্তি প্রকাশ দমকল কর্তাদের
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরেও হুঁশ ফেরেনি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অত্যাধুনিক হাইড্রেন্ট সিস্টেম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। জলের পাইপলাইনে মরচে ধরেছে। হাইড্রেন্ট সিস্টেম বাটারফ্লাই ভালভগুলিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এহেন অবস্থায় হাসপাতালে আগুন লাগলে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া উপায় নেই। বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে এসে এমনই পরিস্থিতি দেখলেন দমকল বিভাগের আধিকারিকরা।

Advertisement

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে বছর তিনেক আগে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে অত্যাধুনিক এই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বসানো হয়েছিল। বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতেই এই ব্যবস্থা করা হয়। অথচ, শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হতে বসেছে। কোথাও পাইপলাইনে জল আসছে না। কোথাও পাইপলাইনে লিক হয়েছে। আবার কোথাও স্প্রিংলার প্যানেল বোর্ড ভাঙা রয়েছে। এমনকি, হাইড্রেন্ট সিস্টেমও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জল পড়ছে না। এদিন অত্যাধুনিক এই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের এহেন বেহাল দশা দেখে দমকল বিভাগের আধিকারিকদের বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে।

এবিষয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, আমরা পূর্তদপ্তর(সাধারণ)’কে বারবার জানিয়েছি। দু’জন প্রশিক্ষিত অপারেটর দরকার ছিল। তাও দেওয়া হয়নি।

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের মূল ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে পুরুষ, মহিলা, শিশু সহ সব বিভাগেই হাইড্রেন্ট সিস্টেম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে। পাইপলাইন দিয়ে স্প্রিংলারের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় প্যানেল বোর্ড বসানো রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই যাতে প্যানেল বোর্ড খুলে পাইপ বের করে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এদিন পরিদর্শনে এসে দমকল কর্তারা দেখেন, বহু প্যানেল বোর্ডে মরচে ধরেছে। তিনটি হাইড্রেন্ট সিস্টেম অকেজো হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালের স্টোররুমের কাছেও হাইড্রেন্ট সিস্টেম অকেজো হয়ে রয়েছে। আউটডোরেও একই অবস্থা। বেশকিছু পাইপের মুখ দিয়ে জল পড়ছে না। অটোমেটিক সিস্টেম প্যানেল বোর্ড ইনস্টল করা নেই। হাসপাতালের পিছনের মাঠে থাকা রিজার্ভারে পর্যাপ্ত জল মজুত থাকে। তা আগুন নেভাতে কাজে লাগবে। অথচ, সেখানেও ত্রুটি ধরা পড়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, মহকুমা হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকায় তৈরি করা অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ করা হল না কেন?

দমকল বিভাগের এক অফিসারকে এদিন বলতে শোনা গিয়েছে, শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু জায়গায় ত্রুটি ধরা পড়েছে।এদিন রোগীর পরিজনদের একাংশের দাবি, এখনও বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি ঠিকই। তবে, তেমন কিছু ঘটলে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না। হাসপাতালে যন্ত্র থাকা স্বত্ত্বেও তা অন্তত সচল থাকুক। তাহলে আমাদের আর চিন্তা থাকবে না। কাটোয়া পূর্তদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার(সাধারণ) উজ্জ্বল দত্ত বলেন, আমি বিষয়গুলি দেখব। প্রসঙ্গত, গত মাসেও দমকল বিভাগের আধিকারিকরা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। তখনও তাঁরা বেশকিছু ত্রুটি পেয়েছিলেন। সেই সময় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের চাবিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিন চাবি পাওয়া গেলেও আসল হাইড্রেন্ট সিস্টেমগুলিই অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ