Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের বাড়ি ও ভেড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ভাণ্ডারের হদিশ, গ্রেপ্তার ৬

সন্দেশখালির ত্রাস শাহজাহানের ঘনিষ্ঠদের বাড়ি ও ভেড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। গ্রেপ্তার ৬, বিস্তারিত পড়ুন।

শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের বাড়ি ও ভেড়িতে  আগ্নেয়াস্ত্র ভাণ্ডারের হদিশ, গ্রেপ্তার ৬
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠদের বাড়ি ও ভেড়ি থেকে অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিশ পেয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ। গোটা কাণ্ডের মাথা তথা তৃণমূল নেতা রমজান আলিসহ মোট ছজনকে জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এতে কার্যত হতবাক পুলিশের শীর্ষকর্তারা। রবিবার এসটিএফের বিশেষ আদালত ধৃতদের পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছে। তবে ধৃতদের মধ্যে রমজান গোটা চক্রের মাস্টারমাইন্ড বলেই নিশ্চিত পুলিশ। কারণ, শাহজাহানের সম্পর্কে আত্মীয় এই রমজান। তাই তাকে জেরা করে পুলিশ গোটা অস্ত্র র‍্যাকেটের খোঁজ চালাচ্ছে। আর এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে পুলিশের অস্ত্র রমজানই। 

Advertisement

তদন্তকারীরা জেনেছেন, জেলে বসেই গোটা অস্ত্র ব্যবসার কাজ চালাচ্ছিল সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা। রমজানের ফোনের কললিস্ট থেকে তা নিশ্চিত পুলিশ। জেলে যাওয়ার আগে অস্ত্র ব্যবসার ক্ষেত্রে বিশেষ পন্থা নিয়েছিল শাহজাহান। মূলত, মাছের গাড়ির আড়ালেই ছোটো ছোটো পেটি করে দেশি-বিদেশি অস্ত্র অন্য জেলায় তো বটেই ভিন রাজ্যেও পাচার করা হত, জেনেছেন তদন্তকারীরা। তবে গোটা চক্রের পিছনে আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের যোগ রয়েছে বলেও সন্দেহ করছে পুলিশ। 
সূত্রের খবর, এই চক্রের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে নিয়েছে রমজান। তার দাবি, অস্ত্র ব্যবসা নিয়ে জেলে বসেই শাহজাহানের সঙ্গে তার আলোচনা চলত। ভোটের আগে এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জলপথে বাংলাদেশের সঙ্গেও অস্ত্র কারবার চলত। অস্ত্রশস্ত্র চীন থেকে আসত বাংলাদেশে। অবশেষে বাংলাদেশ থেকে জলপথে অস্ত্র ঢুকত সন্দেশখালিতে। এই পাপ কারবার বহুদিনের। শাহজাহান জেলে বসেই ফোনে নিত্য যোগাযোগ রাখত রমজানের সঙ্গে। এমনকি, সন্দেশখালিতে অস্থায়ীভাবে অস্ত্র তৈরির কারখানাও তৈরি হয়েছিল। 
স্বভাবতই এই চক্র এতকাল যাবৎ কীভাবে জাল বিছাল এলাকায়, তা নিয়েই ধোঁয়াশায় পুলিশের শীর্ষকর্তারা। রমজান এবং অন্যরা আরো জানিয়েছে—মণিপুর, সরবেড়িয়া, আগারহাটি প্রভৃতি স্থানে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র লুকোনো রয়েছে। সেগুলি উদ্ধারেও তৎপর এখন বেঙ্গল এসটিএফ। এদিকে সূত্রের আরো দাবি, ভোটের আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের এক ভাণ্ডার রেডি রেখেছিল শাহজাহান গ্যাং। ভোট-পরবর্তী বেগতিক পরিস্থিতিতে সেই ভাণ্ডার নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা হয়। এই মরিয়া তৎপরতা থেকেই বহু অস্ত্রের ঠাঁই হয়েছে জলের নীচে কিংবা অন্যত্র গোপন স্থানে। সব মিলিয়ে সন্দেশখালিকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ।

সম্পর্কিত সংবাদ