সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া শহরের কপুরবাগানের বাজিকাণ্ডে অভিযুক্ত নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঁচিতে মৃত্যু হয়েছে। তিনি কপুরবাগানের ওই বিতর্কিত বাড়ির মালিকও। অন্যদিকে ঘটনায় জখম আর একজন রাঁচীতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। এই অবস্থায় মূল অভিযুক্তের মৃত্যু ঘটনায় অন্য মাত্রা যোগ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া শহরের কপুরবাগানের একটি বাড়িতে ভয়াবহ আগুন লাগে। বাড়িটিতে প্রচুর পরিমাণ বাজি এবং বিস্ফোরক মজুত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বাড়ির মালিক নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট দুজন ওই আগুনে ঝলসে যান। তাঁদের প্রথমে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে এবং পরে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় নিশীথবাবুর। পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিশীথবাবু ওই বাড়ির মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে এবং ওই বাড়িতে ওয়েলডিংয়ের কাজ করতে আসা সুনীল সহিসের বিরুদ্ধে পুলিশ আগেই এফআইআর করেছিল। জখম অপর ব্যক্তির ভাই রাঁচী থেকে ফোনে বলেন, দাদা খুব কম কথা বলতে পারছেন। সারা গা পুড়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কীভাবে আগুন লাগলো তা দাদাও স্পষ্ট ভাবে জানে না। তবে দাদা দোতালার ওপরে শেড লাগাচ্ছিল। সে সময়ে আচমকা নীচের দিক থেকে ধোঁয়া দেখতে পায়। কী হয়েছে দেখতে তড়িঘড়ি নীচে নেমে আসে। কিন্তু তারপর আর কিছু মনে নেই। আগুনে ঝলসে যায় তাঁর শরীর। কীভাবে আগুন লেগেছিল কিছুই বুঝতে পারেনি। এখনও আশঙ্কা কাটেনি। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে দাদা। প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, অবৈধ ভাবে ওই বাড়িতে বিস্ফোরক ও বাজি মজুত রাখা হয়েছিল। বিজেপি ওই ঘটনায় এনআইএ তদন্ত দাবি করে। যদিও পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যে ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে এসে নমুনাও সংগ্রহ করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।