Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হলদিয়ায় আগুনের গ্রাসে বস্তি, আতঙ্ক, মহিলা শিশু সহ আহত বহু

হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মহিলা ও শিশু আহত। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত জানুন।

হলদিয়ায় আগুনের গ্রাসে বস্তি, আতঙ্ক, মহিলা শিশু সহ আহত বহু
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ভোর তখন সাড়ে চারটে। হলদিয়া পেট্রকেমিক্যালস লিমিটেড (এইচপিএল)-এর সতর্ক বার্তা পেয়ে বস্তির কেউ রাত জাগছেন। কেউ কেউ আবার ঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন। আচমকা চিৎকার, চেঁচামেচি। চারিদিকে জীবন বাঁচানোর আর্তনাদ। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে ফেলেছে বস্তির বড় একটা অংশ। চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় সঞ্জীব হাজরা ও তাঁর স্ত্রী বুল্টি হাজরার। এইচপিএলের পাইপ লাইন লাগোয়া সঞ্জীবের ঝুপড়ি বাড়ি।   

Advertisement

বাড়িতে ছয় ও আট বছরের দুই ছেলেমেয়ে। সঙ্গে ১৫টি মুরগি। সঞ্জীব দেখেন, দাউদাউ করে জ্বলছে তাঁর বাড়ির একাংশ। আগুনে ছটফট করতে করতে মারা যাচ্ছে একটার পর একটা মুরগি। স্বামী-স্ত্রী কোনওরকমে সেগুলি সরানোর চেষ্টা করেন। ছেলে ও মেয়েটি দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে জীবন বাঁচায়। কিন্তু বাড়ির পোষ্যগুলি বাঁচাতে গিয়ে ঝলসে যান সঞ্জীব-বুল্টি। দম্পতিকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। দুই সন্তানও আসে।  
মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে  সঞ্জীব-বুল্টিদের মতো দগ্ধ বহু বস্তিবাসীকে নিয়ে তমলুক হাসপাতালে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসতে শুরু করে। কারও হাত-পা, কারও আবার বুক থেকে কোমর পর্যন্ত ঝলসে গিয়েছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সবাইকে কলকাতায় পাঠানো হয়। ততক্ষণে হলদিয়া থেকে বিধায়ক প্রদীপ বিজলি, তমলুক মহকুমা পুলিশ অফিসার শুভদীপ ঘোষ, তমলুকের আইসি পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় হাসপাতালে চলে আসেন। ন’জনের প্রাথমিক চিকিৎসার পর গ্রিন করিডর করে কলকাতায় পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে এসএসকেএম হাসপাতালে এবং পাঁচজনকে বালিগঞ্জের একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
জানা গিয়েছে, ভোর সাড়ে চারটে  নাগাদ পেট্রকেমের ন্যাপথা পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে খালে ছড়িয়ে পড়ে অতিদ্রাহ্য ন্যাপথা। তারপর তাতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। যদিও সন্ধ্যার সময় পাইপ লিকেজের খবর পায় পেট্রকেম কর্তৃপক্ষ। সেই মতো এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। পাইপ লাইন বরাবর বিশাল বস্তি। রাতভর বস্তিবাসীরা চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন। বিপদ আঁচ করেই অনেকে রাতও জেগেছিলেন। কিন্তু তারপরও রেহাই পাননি কেউই। সবমিলিয়ে ২৪-২৫ জন বস্তিবাসী আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু এবং মহিলা রয়েছেন। আহতদের সিংহভাগের অবস্থা সংকটজনক। 
পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাত জেগেছিলেন ৪৩ বছরের মিতা ভুঁইয়া। তা সত্ত্বেও আগুনের হাত থেকে তাঁরা বাঁচতে পারেননি। সকলেই কমবেশি আহত হন। মিতাদেবীকেও তমলুক মেডিক্যালে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা নাগাদ ন্যাপথা লিকেজ হওয়ার খবর পাই। তখন থেকেই বেশ উদ্বেগে ছিলাম। দু’চোখের পাতা এক করিনি। ভোর রাতে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেল।’ হাসপাতালে আনা হয় শেখ সেকেন্দার, শেখ আসিকুর রহমান, ৭ বছরের সুরভী খাতুন, বিজলি মাইতি, সন্তু মাইতি, মামনি দোলইকেও। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সবাইকে কলকাতায় পাঠানো হয়। আসিকুরের জামাই শেখ ফিরোজ বলেন, ‘শ্বশুর একটি কারখানার নিরাপত্তারক্ষী। ডিউটি শেষে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তারমধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন।’
বিধায়ক প্রদীপবাবু এদিন তমলুক মেডিক্যাল থেকে আহতদের কলকাতায় পাঠানোর বিষয়ে তদারকি করেন। তিনি বলেন, ‘এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংলগ্ন বস্তি এলাকার মানুষজন আহত হয়েছেন। আমরা তাঁদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে সবরকম ব্যবস্থা করছি। এলাকায় রান্নাবান্নার ব্যবস্থা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ