Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় দাঁড়ানো ট্রেনে আগুন, পুড়ে খাক বগি, বরাতজোরে রক্ষা যাত্রীদের, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি

স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। ছেড়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল একটি বগি। দমকল আসার আগেই গোটা বগিটাই পুড়ে খাঁক।

কাটোয়ায় দাঁড়ানো ট্রেনে আগুন, পুড়ে খাক বগি, বরাতজোরে রক্ষা যাত্রীদের, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। ছেড়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল একটি বগি। দমকল আসার আগেই গোটা বগিটাই পুড়ে খাঁক। ভাগ্যিস, যাত্রীরা তখন সেভাবে আসন দখল করেননি ওই কামরায়। অন্যান্য কামরায় যাঁরা উঠে পড়েছিলেন তাঁরা দৌড়ঝাঁপ করে নেমে পড়েন। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় প্ল্যাটফর্মেও। তড়িঘড়ি জ্বলন্ত বগি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় অন্যান্য কোচগুলিকে। রবিবার সকালে কাটোয়া স্টেশনে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতবাক সব মহলই। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল। 

Advertisement

ঘড়িতে তখন ভোর ৫টা ৪০মিনিট। কাটোয়া স্টেশন থেকে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লোকাল। দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সেটি। আচমকা মাঝের একটি কামরা থেকে আগুনে হলকা বেরোতে দেখেন যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা কামরাটাই চলে যায় আগুনের গ্রাসে। ডাকা হয় কাটোয়া দমকলকে। দু’টি ইঞ্জিন ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে। ততক্ষণে কামরাটি প্রায় ভস্মীভূত হয়ে যায়। ওই ট্রেনে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন। রবিবার, ছুটির দিন বলে যাত্রীদের চাপ কম ছিল। অভিশপ্ত কামরাতে তখনও তেমন কোনও যাত্রী ওঠেননি। ফলে, প্রাণহানির কোনও ঘটনাই ঘটেনি। রেলকর্মীরা দ্রুত জলন্ত কামরাটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। বিকেলে ঘটনাস্থলে আসেন পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কপূর। তিনি বলেন, ‘এডিআরএম এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ তবে যে সময় ঘটনাটি ঘটেছিল সে সময় ট্রেনে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না৷ বাইরে থেকে কেউ অগ্নিসংযোগ করেছে কি না, সেটাও দেখা হবে। আমরা ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছি।’
এদিনই বেলার দিকে হাওড়া ডিভিশনের এডিআরএমের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী টিম আসে৷ তাঁরা আগুনে পুড়ে যাওয়া কামরাটিকে পরীক্ষা করেন৷ যাত্রীদের একাংশের দাবি, আরপিএফের গাফিলতির জেরেই এতবড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তাঁদের যুক্তি, রাতে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মেই দাঁড়িয়েছিল৷ ট্রেন ছাড়ার আগে আরপিএফের নজরদারি এড়িয়ে কিভাবে একটি কামরা পুড়ে গেল, সেটা আশ্চর্যের। যাত্রী তনয় মুখোপাধ্যায়, রানা সিংহরায়রা বলছিলেন, ‘আমরা সকালে হাওড়া যাব বলে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলাম৷ দাউ দাউ করে নিমেষেই একটি আস্ত কোচ পুড়ে গেল চোখের সামনে৷ কোনওরকমে পালিয়ে বেঁচেছি৷ ট্রেনটিতে মোট ১৩টি কামরা ছিল৷ আগুন লেগে যাওয়া কামরাটি মাঝখানেই ছিল।’ 
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ‘বাইরে থেকে আগুন লাগানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ সিসি ক্যামেরার ফুটেজের কিছু তথ্য আমাদের হাতে এসেছে৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন আগুন লাগার পর ট্রেনে উঠছে। ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’  আজ, সোমবার ফরেন্সিক টিম আসার কথা। ডিআরএম কাটোয়া স্টেশনের সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুম, আরপিএফ পোস্ট, প্যানেল রুম সব ঘুরে দেখেন৷ পাশাপাশি তিনি কর্তব্যরত আরপিএফদের সবকিছু জানতেও চান।
কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখায় সারাদিন মোট ১৪ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করেন৷ মূলত পূর্ব বর্ধমানের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার মূল সংযোগ রক্ষা করে ট্রেনগুলি সেই শাখাতেই বড় দুর্ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা৷ অনেকেই বলছেন, ট্রেনটি ছাড়ার পর যদি আগুন লাগত, তাহলে বহু যাত্রীর প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।   কাটোয়া স্টেশনে জ্বলছে ট্রেনের বগি। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ