সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার জঙ্গলে বারবার আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বনদপ্তর। শুক্রবার কাঁকসার সরস্বতীগঞ্জ জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনায় মলানদিঘি-শিবপুর রাস্তা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বেশ কয়েকজন গাড়ি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখেন। ধোঁয়ার মাত্রা কমলে গাড়ি নিয়ে তাঁরা গন্তব্যে রওনা দেন। কেন বারবার জঙ্গলে আগুন লাগছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে। অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কোনও অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।
পশ্চিম বর্ধমানে সব থেকে বেশি জঙ্গল রয়েছে কাঁকসায়। বর্ধমান ডিভিশনের মধ্যে পড়ে কাঁকসা বনাঞ্চল। কাঁকসা ছাড়াও আউশগ্রামের জঙ্গলও এই ডিভিশনের মধ্যে রয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই অঞ্চলে জঙ্গলের পরিমাণ ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর প্রবণতা থাকে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে। অনেক সময় দুষ্কৃতীরাও আগুন ধরিয়ে গাছগুলিকে মেরে ফেলে। তারপর সেই মরা গাছ লুকিয়ে কেটে তারা বিক্রি করে দেয়। জঙ্গলে আগুন লাগানো রোধ ও বন্যপ্রাণী শিকার রুখতে দপ্তরের তরফে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে। তারপরেও এই ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জঙ্গলে জীবজন্তুর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু, ফি বছর গ্রীষ্মের সময় জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জাহিরুল বলেন, আগুনের জন্য ধোঁয়ায় রাস্তা ঢেকে যাচ্ছে। দু’দিক থেকেই গাড়ি যাতায়াত করছে। ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এখন জঙ্গলে ময়ূরের পাশাপাশি খরগোশ, বনমুরগি, বনবিড়াল প্রভৃতি প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। তাছাড়া জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে অনেক আদিবাসী গ্রাম। আগুন লেগে ছড়িয়ে গেলে তাঁদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জঙ্গলে থাকা অনেক কীটপতঙ্গ, ছোট গাছ আগুনে পুড়ে যায়।বনদপ্তরের আধিকারিক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ফায়ার ব্লোয়ার দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে।