নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার আন্দুল রোডে একটি থার্মোকলের কারখানায় বিস্ফোরণের ফলে আগুন। শনিবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত গোটা কারখানাটি। পুড়ে মৃত্যু হয় এক শ্রমিকের। তাঁর নাম আকাশ হাজরা (১৮)। তিনি উলুবেড়িয়ার তুলসিবেড়িয়ার বাসিন্দা। দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় আলমপুর মোড়ে বেআইনিভাবে চলছিল থার্মোকলের থালা-বাটি তৈরির কারখানাটি বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। সাঁকরাইল থানার পুলিস গিয়ে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিন দুপুরে কাজ শুরুর আগে কারখানার ভিতর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আকাশ ও তাঁর এক সহকর্মী। কাজের সময় এগিয়ে আসায় সঙ্গীটি কারখানার বাইরে গিয়েছিলেন হাতমুখ ধুতে। ঠিক তখনই আচমকা কারখানার ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর মুহূর্তে আগুন ধরে যায়। বিকট শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাইরে থাকার কারণে ওই কর্মী প্রাণে বেঁচে যান। আর কারখানার ভিতরে থাকার ফলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আকাশবাবুর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকল। সাঁকরাইল থানা থেকে বিশাল পুলিস বাহিনীও পৌঁছয়। অগ্নিদগ্ধ আকাশের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে দমকল জানায়, কারখানার ভিতরে মেশিন ভয়ানক গরম হয়ে গিয়েছিল। সে কারণেই সম্ভবত বিস্ফোরণ ঘটেছে। কারখানার ভিতর প্রচুর পরিমাণ থার্মোকলের সামগ্রী মজুদ ছিল। ফলে সে দাহ্য পদার্থে অগ্নিসংযোগ হয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিস মৃতের দেহ উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। বিক্ষোভ বড় আকার নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘প্রতিবছরই কারখানাটিতে আগুন লাগে। আশপাশেই একাধিক বসতি আছে। ফলে সবাইকে আতঙ্কে থাকতে হয়। প্রশাসনকে বারবার জানানো হয়েছে। তারপরও বেআইনিভাবে রমরমিয়ে চলছে কারখানা।’ শ্রাবন্তী মান্না, দেবু মান্না নামে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘পুলিসকে বারবার এই বেআইনি কারখানা বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিসেরও চরম গাফিলতির কারণেই ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এর বিচার চাই।’ সাঁকরাইল থানার পুলিস শেষপর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিস জানিয়েছে, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।