Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে কাটমানি চাইলেই থানায় এফআইআর

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা চাইলেই নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হবে। সাফ জানিয়ে দিলেন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের নেতারা।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে কাটমানি চাইলেই থানায় এফআইআর
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা চাইলেই নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হবে। সাফ জানিয়ে দিলেন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের নেতারা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই জেলার বেশ কিছু ব্লক থেকে এমন অভিযোগ আসে। তৃণমূল নেতারা বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের মাথার উপর ছাদ তৈরির জন্য এক টাকাও দেয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে উপভোক্তাদের কাছ থেকে রাজ্যের তরফে পাঠানো টাকার ভাগ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের কাছেও নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারবে। সেক্ষেত্রে সমস্ত রকম গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।

Advertisement

মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, কেন্দ্রের তরফে কোনো সহযোগিতা মিলছে না। তার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়ি পাচ্ছে। বহু কষ্ট করে রাজ্য টাকা পাঠাচ্ছে। কেউ উপভোক্তাদের কাছে টাকা চাইলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই নেতা যে পদেই থাকুন না কেন, তাঁর শাস্তি হবেই। এমনকি, এফআইআর করা হতে পারে। আমাকে ফোন করেও অভিযোগ জানাতে পারেন।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার বাড়ি তৈরির জন্য সহযোগিতা করেনি। এর ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়ে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর থেকেই বাংলার বাড়ি প্রকল্প শুরু হয়। এই প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রথম ধাপেই এক লক্ষ দু’ হাজার মানুষ বাড়ি পেয়েছে। এরপর এবছর দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার পরিবার বাড়ি পাচ্ছে। তার মধ্যে কেশপুর ব্লকে ১৫ হাজার, ডেবরায় ১০ হাজার, মেদিনীপুর সদর ব্লকে ৯ হাজার, সবং ব্লকে ১৬ হাজার পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা খুবই খুশি।
এক তৃণমূল নেতার কথায়, বুথস্তরের অনেক নেতা বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব নিচ্ছেন। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ টাকা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। দল কয়েকজন নেতার গতিবিধি নজরে রাখছে। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শংকর গুছাইত বলেন, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা লুট করেই নেতাদের সম্পত্তি বেড়েছে। একজন নেতারও শাস্তি হবে না। মানুষ এর বিচার করবে।
জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, বিজেপি নেতারা বিশ্বখ্যাত তাঁদের ডায়ালগের জন্য। বিজেপি বাংলার মানুষের প্রাপ্য আটকে রেখেছে। বাড়ি করার টাকা দিচ্ছে না। আর মুখে বড় বড় কথা বলছে। বিজেপি নেতাদের মুখে দুর্নীতির কথা মানায় না, ওরা পারলে দেশটা বিকিয়ে দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ