Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্দারমণি কাণ্ডে হোটেল মালিকের নামে এফআইআর

গত ৪ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনা সামনে আসতেই ভূমিদপ্তরের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়।

মন্দারমণি কাণ্ডে হোটেল মালিকের নামে এফআইআর
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জীবিত ব্যক্তির নামে ভুয়ো ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ বানিয়ে কলকাতার বাসিন্দা সঞ্জয় কুণ্ডু মন্দারমণির এক ব্যক্তির ৭১ডেসিমল জমি হাতবদল করে নিয়েছিলেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনা সামনে আসতেই ভূমিদপ্তরের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়। সোমবার রামনগর-২ব্লকের কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েত ব্লক ভূমিদপ্তরকে রিপোর্ট দিয়ে জানায়, ওই ডেথ সার্টিফিকেট জাল। দাদনপাত্রবাড় গ্রামের শ্রীকান্ত মণ্ডল জীবিত। তাঁর নামে ওই ডেথ সার্টিফিকেট পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু করা হয়নি। ব্লক ভূমিদপ্তর থেকে সেই রিপোর্ট অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) অফিসে আসে। অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হচ্ছে। জমির রেকর্ড সংশোধন করে শ্রীকান্তবাবুর নামেই করা হবে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায়ই এধরনের ঘটনা ঘটছে। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট বানানো হচ্ছে। আদালতের সিল ও বিচারকের সই জাল করে মিথ্যা হলফনামাও তৈরি হচ্ছে। সেই নথির ভিত্তিতে জীবিতকে মৃত দেখিয়ে তাঁর সম্পত্তি বহিরাগত কোনও ব্যক্তি কব্জা করে নিচ্ছেন। কয়েকদিন আগে খেজুরি-১ ব্লকেও এধরনের একটি ঘটনা ঘটে। সেখানকার ব্লক ভূমি অফিসারকে এফআইআর করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি)। দাদনপাত্রবাড় মৌজায় শ্রীকান্ত মণ্ডলের ৭১ডেসিমল পাট্টা জমি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পাট্টা জমি হস্তান্তরযোগ্য নয়। তবুও তিনি প্রায় ৬৫ডেসিমল জমি কলকাতার চারজন ব্যক্তিকে ভোগদখল করার জন্য ওই জমি তুলে দেন। সেই জমি হাতবদল হয়ে সঞ্জয় কুণ্ডু নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী পান। সঞ্জয় সেখানে একটি হোটেল নির্মাণ করেছেন। পাট্টা জমি বিক্রি হয় না। মালিকানাও বদল হয় না। পাট্টাপ্রাপক মারা গেলে ওয়ারিশ সূত্রে উত্তরসূরী পান। এই অবস্থায় সঞ্জয় কুণ্ডু নামে ওই হোটেল ব্যবসায়ী নিজের পদবি বদল করে সঞ্জয় মণ্ডল বলে ভুয়ো আধার, ভোটার ও অন্যান্য নথি বানিয়ে নেন। তারপর শ্রীকান্তবাবুকে মৃত দেখিয়ে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ওয়ারিশ পরিচয়ে ভুয়ো এফিডেভিট কপি জমা দেন। তারভিত্তিতে শ্রীকান্তবাবুর ৭১ডেসিমল জমি তাঁর নামে রেকর্ড হয়ে যায়। ব্লক ভূমিদপ্তরে জমা দেওয়া হলফনামায় সঞ্জয় কুণ্ডুর ছবি আছে।রামনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ বিজয়শঙ্কর পট্টানায়েক বলেন, মন্দারমণিতে ৮০-র দশকে অনেকে‌ই বিপুল পরিমাণ পাট্টা জমি পেয়েছেন। সেইসব পাট্টা জমি হাতবদল হয়ে জমি মাফিয়াদের হাতে চলে গিয়েছে। শ্রীকান্তবাবুর প্রায় ৬৫ডেসিমল জমিও ভোগদখলের জন্য এভাবেই কলকাতার চারজনের হাতে চলে যায়। তারপর জানা যায়, তাঁকে মৃত দেখিয়ে সমূহ জমির রেকর্ড অন্যের নামে করা হয়েছে। গোটাটাই একটা অপরাধ। বিষয়টি সামনে আসার পরই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রীকান্তবাবুর ছেলে সুব্রত মণ্ডল বলেন, জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হতেই বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভূমিদপ্তর তৎপরতার সঙ্গে এই বিষয়টি হস্তক্ষেপ করে পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা খুশি। আমরা চাই, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ